সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার জেরে আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় উগ্রবাদীদের সন্দেহভাজন আস্তানায় বিমান ও সমন্বিত হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।
রোববার ভোরে পরিচালিত এ অভিযানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে বলে ইসলামাবাদ জানিয়েছে।
অভিযান ঠিক কোন এলাকায় চালানো হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের কাছাকাছি অঞ্চল এমনকি আফগানিস্তানের ভেতরের কিছু জায়গাও-লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কাবুলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)–এ দেওয়া বিবৃতিতে জানান, পাকিস্তানি তালিবান (টিটিপি) ও তাদের সহযোগীদের সাতটি ক্যাম্পে “নির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক” অভিযান চালানো হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলে সক্রিয় ইসলামিক স্টেট (আইএস)-ঘনিষ্ঠ একটি গোষ্ঠীর অবস্থানেও হামলা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; তবে দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। সাম্প্রতিক হামলার পেছনে “আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্ব ও সমন্বয়কারীদের” সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এই সামরিক পদক্ষেপের আগে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজোর জেলায় একটি নিরাপত্তা চৌকিতে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ও বন্দুক হামলায় ১১ জন সৈন্য এবং এক শিশু নিহত হন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারী আফগান নাগরিক ছিলেন। এর একদিন আগে বান্নু জেলায় পৃথক আত্মঘাতী হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুজন সেনা সদস্য নিহত হন।
এসব ঘটনার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী সতর্কবার্তা দিয়ে জানায়, দায়ীদের অবস্থান যেখানেই হোক না কেন, অভিযান চালানো হবে এবং আর কোনো “সংযম” দেখানো হবে না।
পাকিস্তানের অভিযোগ, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে টিটিপি ও কিছু বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়েছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, টিটিপি আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে কাবুল ও টিটিপি উভয়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করে।