মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়ার সময়সীমার দিন, অর্থাৎ ২৭শে মার্চ, শুক্রবার, হাজার হাজার মার্কিন মেরিন সেনার মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে (এনওয়াইটি) জানিয়েছেন, পেন্টাগন একটি সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের ইমিডিয়েট রেসপন্স ফোর্সের (আইআরএফ) সদস্যদের মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনা করছে, যার মধ্যে খার্গ দ্বীপ দখলের একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনাও রয়েছে।
দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে) জানিয়েছে, জাপান-ভিত্তিক উভচর আক্রমণকারী জাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি এবং ইউএসএস নিউ অরলিন্স, যেগুলোতে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের (এমইইউ) প্রায় ২,২০০ মেরিন সেনা রয়েছে, সেগুলো শুক্রবার ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দায়িত্বাধীন এলাকায় স্থানান্তরিত হবে।
কর্মকর্তারা আরও জানান যে, পৌঁছানোর পর ইউনিটটির হরমুজ প্রণালীতে পৌঁছাতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।
ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট, ইউএসএস বক্সার উভচর প্রস্তুত গ্রুপে থেকে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই অঞ্চলের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
যখন বক্সার গ্রুপটি ইউএসএস ত্রিপোলি গ্রুপের সাথে যোগ দেবে, তখন এই সম্মিলিত ছয়টি উভচর জাহাজ এই অঞ্চলে মোট প্রায় ৮,০০০ সেনা সদস্য যুক্ত করবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা ইরানে অভিযানকে সমর্থন করার জন্য সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের একটি যুদ্ধ ব্রিগেড এবং এর সদর দপ্তরের কর্মীদের কিছু অংশ মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপগুলোকে বিচক্ষণ পরিকল্পনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে পেন্টাগন বা সেন্টকম থেকে কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি।
যুদ্ধ বাহিনী আসবে ৮২তম এয়ারবোর্ন-এর ইমিডিয়েট রেসপন্স ফোর্স থেকে, যা প্রায় ৩,০০০ সৈন্যের একটি ব্রিগেড এবং ১৮ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বের যেকোনো স্থানে মোতায়েন হতে সক্ষম।
প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলেছেন, "এই বাহিনী ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখল করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।"
বিবেচনাধীন একটি পরিস্থিতিতে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের প্রায় ২,৫০০ সৈন্যের একটি প্রাথমিক আক্রমণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রাক্তন মার্কিন কমান্ডারদের মতে, সাম্প্রতিক মার্কিন বোমাবর্ষণে খার্গ দ্বীপের বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মেরিনদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি, কারণ মেরিনদের কমব্যাট ইঞ্জিনিয়াররা দ্রুত বিমানঘাঁটির অবকাঠামো মেরামত করতে পারবে। মেরামত হয়ে গেলে, বিমান বাহিনী সি-১৩০ এবং সি-১৭ বিমানের মাধ্যমে সরঞ্জাম, রসদ এবং অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানো শুরু করতে পারে।
সেই পরিস্থিতিতে, ৮২তম এয়ারবোর্ন-এর সৈন্যরা মেরিনদের সহায়তা করতে পারে।
প্যারাট্রুপারদের সুবিধা হলো তারা রাতারাতি পৌঁছাতে পারে। অসুবিধাটি হলো, তারা সাঁজোয়া যানের মতো কোনো ভারী সরঞ্জাম বহন করে না, যা ইরানের পাল্টা আক্রমণের ক্ষেত্রে সুরক্ষা দিতে পারত।
অন্যদিকে, মেরিনদের ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের মতো রসদ সরবরাহ এবং টিকে থাকার ক্ষমতা নেই, যা প্রাথমিক আক্রমণের পর মেরিন বাহিনীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে পারত।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্চের শুরুতে সেনাবাহিনী হঠাৎ করে লুইজিয়ানার ফোর্ট পোলকের জয়েন্ট রেডিনেস ট্রেনিং সেন্টারে ৩০০ সদস্যের ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সদর দপ্তরের একটি মহড়ায় অংশগ্রহণ বাতিল করে দেয়। পেন্টাগন যদি প্রস্তুত ব্রিগেডকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেয়, সেই আশঙ্কায় কমান্ড ইউনিটটিকে নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগে রেখে দেওয়া হয়।
এই বাতিলের খবরটি এর আগে ওয়াশিংটন পোস্ট (ডব্লিউপি) প্রকাশ করেছিল।
৮২তম এয়ারবোর্নের ইমিডিয়েট রেসপন্স ফোর্স সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকবার স্বল্প সময়ের নোটিশে মোতায়েন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদ দূতাবাসে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে, ২০২১ সালের আগস্টে লোকজনকে সরিয়ে আনার জন্য আফগানিস্তানে এবং ২০২২ সালে ইউক্রেন-সম্পর্কিত অভিযানে সহায়তা করার জন্য পূর্ব ইউরোপে মোতায়েন।
২২শে মার্চ ট্রাম্প ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম জারি করে হুমকি দেন যে, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দেয়, তবে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো "ধ্বংস" করে দেবেন। এরপর সোমবার ইরানের সঙ্গে "ফলপ্রসূ" আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা স্থগিতের মেয়াদ পাঁচ দিনের জন্য বাড়িয়ে দেন।
এই পাঁচ দিনের সময়সীমা সোমবার সন্ধ্যায় শেষ হয়ে গেছে, যার অর্থ হলো শুক্রবার মেরিন সেনাদের আগমন ট্রাম্পের দেওয়া বর্ধিত সময়সীমার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যাচ্ছে।
এই বৃহত্তর আঞ্চলিক সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে ইউএসএস বক্সার গ্রুপ, যার মধ্যে আছে ইউএসএস বক্সার, ইউএসএস পোর্টল্যান্ড এবং ইউএসএস কমস্টক। এই জাহাজগুলো ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের প্রায় ২,৫০০ মেরিন সেনাকে বহন করে আনছে, ফলে তিনটি জাহাজে মোট সেনাসদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪,০০০।
২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালানোর পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ওই হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ ১,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন।
সূত্র: তুর্কিয়ে টুডে
ডিএস/এমএএইচ