মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বন্দরগুলোতে ওয়াশিংটনের অবরোধ সফল হয়েছে এবং তিনি তেহরানকে ‘আত্মসমর্পণ’ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

অ্যাক্সিওসের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করবেন। সংবাদমাধ্যমটি এই বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সেন্টকম আলোচনার অচলাবস্থা ভাঙতে এবং তেহরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করার জন্য ইরানকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার একটি ‘সংক্ষিপ্ত ও শক্তিশালী’ পরিকল্পনা তৈরি করেছে।

হরমুজ প্রণালীর নৌপথ সুরক্ষিত করতে জোট চাইছে যুক্তরাষ্ট্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সক্ষম করার লক্ষ্যে একটি জোটে যোগ দিতে বলছে। মার্কিন দূতাবাসগুলোতে পাঠানো তারবার্তায় বলা হয়েছে, “আপনাদের অংশগ্রহণ নৌচলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং বিশ্ব অর্থনীতি রক্ষায় আমাদের সম্মিলিত সক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে।” “ঐক্যবদ্ধ সংকল্প প্রদর্শন এবং প্রণালী দিয়ে যাতায়াতে ইরানের বাধার ওপর অর্থপূর্ণ আঘাত হানার জন্য সম্মিলিত পদক্ষেপ অপরিহার্য।”

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি ইরান যুদ্ধের সমালোচক আইন প্রণেতাদের ‘সবচেয়ে বড় শত্রু’ আখ্যা দিয়েছেন। ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর এই প্রথম মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্য দিলেন। এমন এক সময়ে এই ঘটনাটি ঘটল যখন হোয়াইট হাউস তার প্রতিরক্ষা বাজেটের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার চাইছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে পেন্টাগন প্রধান বলেন, “তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হয়েছে, এবং আমরা সেগুলোর ওপর ২৪/৭ নজর রাখছি, তাই আমরা জানি কোথায় কোনো পারমাণবিক উপাদান থাকতে পারে।”

মার্কিন অবরোধ: ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা বুধবার (২৯শে এপ্রিল) জ্বালানি খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ইরানের বন্দর অবরোধ কয়েক মাসের জন্য বাড়ানো এবং ভোক্তাদের ওপর এর প্রভাব সীমিত করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

এদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযানকে নাকচ করে দিয়েছেন এবং ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছে যে, এ পর্যন্ত তাদের সংযম “কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই” নেওয়া হয়েছে।

হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট অচলাবস্থার কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের উপরে উঠে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।