মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান ধরপাকড় অভিযানের অংশ হিসেবে সেলাঙ্গর রাজ্যের সেলায়াং বারেরু এলাকায় ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে সেলাঙ্গর রাজ্য নিরাপত্তা পরিষদের সমন্বয়ে শুরু হওয়া এই অভিযানে মোট ১,১১৬ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয় এবং ৮৪৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে ৩৫ জন নারী।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—৬৪৭ জন মিয়ানমারের নাগরিক, ১০২ জন নেপালি, ৭৯ জন বাংলাদেশি, ১৫ জন ইন্দোনেশীয় এবং ১০ জন ভারতীয়।
অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন সেলাঙ্গরের মেন্তরি বেসার দাতুক সেরি আমিরুদ্দিন শারি।
রোববার কসমো অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বৃহৎ অভিযানে অংশ নেয় অভিবাসন বিভাগ, রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ, শ্রম বিভাগ, জাতীয় মাদকবিরোধী সংস্থা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষসহ একাধিক সরকারি সংস্থা।
গ্রেফতারদের বয়স ২১ থেকে ৫৩ বছরের মধ্যে। তাদের বিরুদ্ধে পরিচয়পত্র না থাকা, পাসের শর্ত লঙ্ঘন, অতিরিক্ত সময় অবস্থান এবং ভুয়া বা অবৈধ কার্ড ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে অভিবাসন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি, সেলাঙ্গর পুলিশ প্রধান দাতুক শাজেলি কাহার এবং সেলাঙ্গর অভিবাসন পরিচালক খাইরুল আমিনুস কামারুদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
আমিরুদ্দিন শারি জানান, এলাকায় বিদেশিদের আধিক্য এবং অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে জনঅভিযোগ পাওয়ার পর এই কঠোর অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি আরও সতর্ক করেন, কোনো স্থানীয় মালিক বা প্রতিষ্ঠান অবৈধ অভিবাসী নিয়োগ করলে তাদের বিরুদ্ধে মালিক ও কর্মী উভয়কেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও জানান, এর আগে সেরি মুদা ও সেলাঙ্গর হোলসেল মার্কেট এলাকাতেও অনুরূপ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
মেন্তরি বেসার বলেন, কম খরচে ভাড়া পাওয়া ও কুয়ালালামপুর নিকটবর্তী হওয়ায় অনেক বিদেশি সেলায়াং বারুতে বসবাসে আগ্রহী হয়। তবে অবৈধ অবস্থান বা আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
অভিযান চলবে ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট অ্যাক্ট ১৯৬৬, ইমিগ্রেশন রেগুলেশনস ১৯৬৩ এবং এন্টি ট্র্যাফিকিং অ্যান্ড স্মাগলিং অফ মাইগ্র্যান্টস অ্যাক্ট ২০০৭–এর আওতায়।
মেন্তরি বেসার সবাইকে সতর্ক করে বলেন, অবৈধ অভিবাসীকে লুকানো বা আশ্রয় দেওয়া অপরাধ, এর দায়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।