ফিলিস্তিনের গাজায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সামরিক শাখা কাসসাম ব্রিগেডের প্রধান মোহাম্মদ ওদেহ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।

বুধবার (২৭ মে) ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানান, গতকাল গাজা সিটি এলাকায় চালানো হামলায় ওদেহ নিহত হন।

তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি হামাস।

চলতি মাসের শুরুতে (১৬ মে) ইসরায়েলি হামলায় নিহত হওয়া হামাসের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ইজ্জুদ্দিন আল-হাদ্দাদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে মোহাম্মদ ওদেহ কাসসাম ব্রিগেডের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়। যদিও হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে সেই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, গাজায় হামাসের সামরিক শাখার চতুর্থ শীর্ষ কমান্ডারকে গতকাল নির্মূল করা হয়েছে এবং তাকে তার সঙ্গীদের সঙ্গে নরকের গভীরে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ জানান, ইসরায়েলি বাহিনী ওদেহকে লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছিল।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, “মাসের পর মাস গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে ওদেহ ও তার সহযোগীদের গতিবিধি অনুসরণ করার পর” এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এদিকে আল-শিফা হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের রিমাল এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।

আল জাজিরার গাজা প্রতিনিধি হিন্দ খুদারি জানান, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত বাজার এলাকায় হামলা চালানোয় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাত প্রায় সাড়ে ৯টার দিকে গাজা সিটিতে তিনটি বড় বিস্ফোরণ ঘটে। হামলার লক্ষ্য ছিল রিমাল এলাকা, যেখানে অসংখ্য দোকানপাট ও বাজার রয়েছে। ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিলেন মানুষ, ঠিক সেই সময় বিমান হামলা চালানো হয়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন মোহাম্মদ ওদেহ।

বিবৃতিতে বলা হয়, ওদেহ হামাসের সামরিক শাখার শেষ দিকের জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের একজন, যিনি ৭ অক্টোবরের হামলার পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং পরবর্তীতে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনায় ভূমিকা রেখেছিলেন।

এই ঘটনার ফলে আগে থেকেই নাজুক অবস্থায় থাকা যুদ্ধবিরতি আরও চাপের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার জবাবে গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে ৭২ হাজার ৮০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

যুদ্ধ চলাকালে হামাসের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকেও হত্যা করেছে ইসরায়েল।নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হামাসের সাবেক রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়া, গাজায় সংগঠনটির নেতা ইয়াহইয়া সিনওয়ার, কাসসাম ব্রিগেডের দীর্ঘদিনের প্রধান মোহাম্মদ দেইফ এবং ইয়াহইয়া সিনওয়ারের উত্তরসূরি মোহাম্মদ সিনওয়ার।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে অন্তত ৯০৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ৮০৩ জনে।

সূত্র : আল জাজিরা