কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে আদিয়ালা কারাগারে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে (আইএইচসি) আবেদন করেছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।
এদিকে, আদিয়ালা কারাগারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শেষে রাওয়ালপিন্ডিতে সমাবেশ করার ঘোষণা দিলে পাঞ্জাব পুলিশ পিটিআইয়ের বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে বলপ্রয়োগ করে। বুধবার মধ্যরাতের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে পিটিআই দাবি করে, পুলিশের অভিযানে দলের একাধিক নেতা-কর্মী আহত ও গ্রেপ্তার হয়েছেন।
সংবিধানের ১৯৯ অনুচ্ছেদের আওতায় প্রায় ১৭ জন সিনেটরের একটি প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আবেদন করেন। এ দলে সিনেটর ব্যারিস্টার সৈয়দ আলী জাফরও রয়েছেন। আবেদনে পাঞ্জাব স্বরাষ্ট্র দপ্তর এবং আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে ইমরান খান ও বুশরা বিবির বিরুদ্ধে কথিত অবৈধ ও অসাংবিধানিক একক কারাবাস এবং অন্যান্য অমানবিক আচরণকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়। এতে বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদি একঘরে বন্দিত্ব কার্যত নির্যাতনের শামিল, যা সংবিধানে নিশ্চিত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে।
ব্যারিস্টার আলী জাফর বলেন, সংসদীয় তদারকি, মানব মর্যাদা ও আইনের শাসন রক্ষার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই সিনেটররা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, গত দুই মাস ধরে কোনো বিচারিক আদেশ কিংবা পাকিস্তান দণ্ডবিধি বা প্রিজন অ্যাক্টের আওতায় আইনি ভিত্তি ছাড়াই ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে একঘরে করে রাখা হয়েছে।
এতে অভিযোগ করা হয়, তাঁদের বই, পত্রিকা, টেলিভিশন, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং আইনজীবীর সঙ্গে গোপন বৈঠকের মতো মৌলিক বন্দি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি, আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতিও ইচ্ছামতো প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।
সিনেটরদের দাবি, এসব ব্যবস্থা শাস্তিমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যা রাজনৈতিক বন্দিদের ওপর চাপ প্রয়োগের একটি বৃহত্তর ধারার অংশ। এতে সাংবিধানিক গণতন্ত্র ও সংসদীয় নজরদারি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, পিটিআইয়ের অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর, সাবেক জাতীয় পরিষদের স্পিকার আসাদ কায়সার এবং দলের মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা ইমরান খান ও বুশরা বিবি সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত শুনানির তারিখ নির্ধারণের দাবিতে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে উপস্থিত হন।
সূত্র জানায়, পিটিআই নেতারা আইএইচসির প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। গণমাধ্যমে ব্যারিস্টার গওহর বলেন, মামলাগুলোর দ্রুত শুনানির অনুরোধ জানাতে তিনি প্রধান বিচারপতির কক্ষে গিয়েছিলেন, তবে সাক্ষাৎ হয়নি। পরে আবার চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, পিটিআই ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ বার হাইকোর্টে আবেদন করেছে, কিন্তু এখনো কোনো মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়নি। তাঁর মতে, একজন নারী সংশ্লিষ্ট আপিলের ক্ষেত্রে দ্রুত শুনানি হওয়া উচিত।
সূত্র: ডন