যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলন নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে। শনিবার দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন। ‘নো কিংস’ নামের এই আন্দোলনের আওতায় আয়োজিত কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব অঙ্গরাজ্যে একযোগে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।
খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ শুরুর প্রায় এক মাস পর এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর এটি ‘নো কিংস’ আন্দোলনের তৃতীয় দফা কর্মসূচি হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে।
‘নো কিংস’ আন্দোলনের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সব ৫০টি অঙ্গরাজ্যে তিন হাজার তিনশোর বেশি বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস ও ওয়াশিংটন ডিসিতে সবচেয়ে বড় জমায়েত দেখা গেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ইউরোপের কয়েকটি শহরেও এই আন্দোলনের সমর্থনে সমাবেশ হয়েছে। রোম, প্যারিস ও বার্লিনে সমান্তরাল কর্মসূচি পালিত হয়।
আয়োজকরা এবার বড় শহরের পাশাপাশি রক্ষণশীল এলাকাগুলোতেও আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রগতিশীল অলাভজনক সংস্থা ইনডিভিজিবলের সহপ্রতিষ্ঠাতা লিয়া গ্রিনবার্গ বলেন, এই কর্মসূচির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শুধু কত মানুষ অংশ নিয়েছে তা নয়, বরং কোথায় কোথায় মানুষ বিক্ষোভ করছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
এই বিক্ষোভ কর্মসূচির সবচেয়ে বড় জমায়েত হয়েছে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল এলাকায়। গত বছরের ডিসেম্বরে এই এলাকায় ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ নামে একটি অভিযান চালানো হয়েছিল। ওই অভিযানে তিন হাজারের বেশি ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা অংশ নেন এবং জোরপূর্বক বহিষ্কার অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জানুয়ারিতে সেই অভিযানের সময় দুই মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেত্তি ও রেনি নিকোল গুড নিহত হন। তাদের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শনিবারের বিক্ষোভেও তাদের স্মরণ করা হয় এবং প্রতিবাদকারীরা সরকারের নীতির বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেন।
মিনেসোটার সমাবেশে প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বক্তব্য দেন। এছাড়া সংগীত পরিবেশন করেন রক কিংবদন্তি ব্রুস স্প্রিংস্টিন এবং লোকসংগীতশিল্পী জোয়ান বায়েজ। আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো একটি ভিডিও বার্তা পাঠান। সেই বার্তায় তিনি বিক্ষোভকারীদের সাহস ও প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন।
ওয়াশিংটন ডিসিতেও বড় আকারের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। লিঙ্কন মেমোরিয়াল ও ওয়াশিংটন মনুমেন্টের আশপাশে হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন সাইনবোর্ড ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে জড়ো হন। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে কর্তৃত্ববাদী শাসন বা ধনকুবেরদের নিয়ন্ত্রণে যেতে দেবেন না। জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে গত বছর জুন ও অক্টোবরে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের প্রথম দুটি বড় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেসব কর্মসূচিতেও লাখো মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এই বিক্ষোভ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। অনেকের মতে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে নিজেদের আসন সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।