মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবার ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের রূপ নিয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) দিবাগত রাতে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন প্রান্তে তেল স্থাপনায় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর এখন ‘অ্যাসিড বৃষ্টির’ আতঙ্কে কাঁপছে পুরো শহর।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এক জরুরি সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, তেল ডিপোগুলোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ফলে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত হাইড্রোকার্বন, সালফার এবং নাইট্রোজেন অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে মিশে গেছে।
এই রাসায়নিকগুলো মেঘের সাথে বিক্রিয়া করে অত্যন্ত বিপজ্জনক অ্যাসিড বৃষ্টি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে তেহরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শাহরান তেল ডিপো থেকে ওঠা আগুনের কুণ্ডলী এখনো রাতের আকাশকে গ্রাস করে আছে।
রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, এই বিষাক্ত বৃষ্টিতে ভিজে গেলে দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ এবং ত্বকের মারাত্মক ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। এমনকি বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরও নাগরিকদের ঘর থেকে বের না হতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটির মতে, গরম ভূপৃষ্ঠ থেকে অ্যাসিড মিশ্রিত পানি বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে বিষাক্ত উপাদানের ঘনত্ব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে:
- সিল করা খাবার ব্যবহারের আগে কন্টেইনারের ওপরের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে, যাতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অ্যাসিড কণা খাবারে মিশতে না পারে।
- বাড়ির পানি পরিশোধন ব্যবস্থার ফিল্টার দ্রুত পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ বিষাক্ত পানি পুরনো ফিল্টারকে অকেজো করে দিতে পারে।
বিবিসি ফার্সি বিভাগের তথ্যমতে, হামলার ১০ ঘণ্টা পরও অনেক স্থাপনায় দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে।
এই অভিযানে অন্তত ৩০টি তেল ডিপো ধ্বংস হয়েছে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছেন।
শহরজুড়ে এখন কেবল আগুনের লেলিহান শিখা আর বিষাক্ত ধোঁয়ার রাজত্ব, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।