মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের বোল্ডার শহরে ইসরায়েলপন্থী একটি জনসভায় ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাটি ঘটে পার্ল স্ট্রিটের কাছে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশ চলাকালে। এতে বেশ কয়েকজন অংশগ্রহণকারী আহত হন বলে জানায় স্থানীয় প্রশাসন।

রোববারের (১ জুন) এই ঘটনায় সন্দেহভাজন এক হামলাকারীকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়েছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই-এর পরিচালক কাশ প্যাটেল এই ঘটনাকে ‘সুনির্দিষ্ট সন্ত্রাসী তৎপরতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এফবিআই-এর সহকারী পরিচালক বেন উইলিয়ামসন জানান, হামলাকারী ওই ব্যক্তি সমাবেশের সময় "ফ্রি প্যালেস্টাইন" বলে চিৎকার করে উপস্থিত জনতার দিকে আগুনে বিস্ফোরক (ফায়ারবোমা) নিক্ষেপ করেন। এতে উপস্থিত ইহুদি সম্প্রদায়ের লোকজন আহত হন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ব্রুক কফম্যান। তিনি জানান, অন্তত চারজন নারী মাটিতে পড়ে যান এবং তাদের শরীরের নিচের অংশে আগুনে পোড়ার ক্ষত ছিল। একজনের শরীরের বড় একটি অংশই দগ্ধ হয়েছিল।

বোল্ডার পুলিশ প্রধান স্টিফেন রেডফার্ন জানান, ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন। তিনি বলেন, “বোল্ডারের এই শান্ত বিকেল রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে, যা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা সবাইকে আহ্বান জানাই—আহতদের ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ান।”

কলোরাডোর অ্যাটর্নি জেনারেল ফিল উইজার বলেন, হামলাটি বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, কারণ এতে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

হামলাকারী ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও তার পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। ইসরায়েল-গাজা সংঘাতকে কেন্দ্র করে দেশটিতে সম্প্রতি ফিলিস্তিনপন্থী ও ইহুদিবিদ্বেষী উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।

মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার বলেন, “এই হামলা ভয়ংকর ও অগ্রহণযোগ্য। ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে আমাদের শক্ত অবস্থান নিতে হবে।” কলোরাডোর গভর্নর জারেড পলিসও হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এটি আমাদের রাজ্যের জন্য লজ্জাজনক ও বেদনাদায়ক একটি ঘটনা।”

উল্লেখ্য, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েলি দূতাবাসের দুই কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।