তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইস্তাম্বুল বিজয়ের ৫৭২তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেশের পরিবেশ ও জ্বালানি খাতে দুটি ঐতিহাসিক উদ্যোগের সূচনা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) উদযাপিত এই বিশেষ দিনে তিনি ইস্তাম্বুলে চারটি নতুন জাতীয় উদ্যান উদ্বোধন করেন এবং কৃষ্ণসাগরে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘ওসমান গাজী’ নামে দেশের প্রথম ভাসমান গ্যাস উৎপাদন ইউনিটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা ঘোষণা করেন।

এই জাতীয় উদ্যানগুলো শুধুমাত্র শহরের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষার অংশ নয়, বরং দুর্যোগকালীন সময়ে আশ্রয়ের নিরাপদ স্থান হিসেবেও বিবেচিত হবে বলে জানান প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। নতুন চারটি উদ্যান উদ্বোধনের মাধ্যমে ইস্তাম্বুলে জাতীয় উদ্যানের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৪টি, যা প্রায় ৫৫ লাখ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। বর্তমানে আরও ২০টি উদ্যান নির্মাণাধীন রয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি ইস্তাম্বুলে ঘটে যাওয়া ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ২৩৬ জন আহত হওয়ার ঘটনায় নাগরিক সুরক্ষার গুরুত্ব আরও জোরালোভাবে উঠে এসেছে। এর প্রেক্ষিতে এই উদ্যানগুলোকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে, কৃষ্ণসাগরের সাকারিয়া গ্যাস ক্ষেত্রে ‘ওসমান গাজী’ ভাসমান ইউনিটের উদ্বোধন দেশটির শক্তি খাতকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে। এই ইউনিটটি গ্যাস উত্তোলন দ্বিগুণ করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্যাস উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে এটি একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ‘ওসমান গাজী’ ইউনিটটি ইস্তাম্বুল প্রণালী অতিক্রম করে ১১ ঘণ্টার মধ্যে ফিলিয়োস বন্দরে পৌঁছাবে।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, “আমরা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি, যেখানে ড্রোন, ইউএভি এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আমাদের প্রতিরক্ষা শক্তি অন্য দেশের উপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেই আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছে।”

তুরস্কের এই যুগান্তকারী উদ্যোগগুলো শুধু দেশের উন্নয়নই নয়, বরং পরিবেশ ও প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করার ইঙ্গিত বহন করে।

তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি