গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র— এমন ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইউরোপ ও কানাডার নেতারা যখন বলছেন, আর্কটিক অঞ্চল সেখানকার মানুষেরই সম্পদ, তার পরই যুক্তরাষ্ট্র এই অবস্থান পরিষ্কার করল।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়।

এর আগের দিন হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ডেনমার্কের অধীনস্থ গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকারের বিষয় হিসেবে দেখছেন। আর্কটিকে প্রতিপক্ষদের প্রভাব ঠেকাতে এটি প্রয়োজনীয় বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এই লক্ষ্য পূরণে নানা কূটনৈতিক ও নীতিগত বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে এবং প্রয়োজনে সামরিক বাহিনী ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

আলজাজিরা মন্তব্য করেছে, দীর্ঘদিনের মিত্র ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলের যেকোনো প্রচেষ্টা ন্যাটো জোটে বড় ধাক্কা হতে পারে এবং ট্রাম্পের সঙ্গে ইউরোপীয় নেতাদের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রথমবারের মতো গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাস থেকে ধরপাকড়ের ঘটনায় আলোচনাটি আবারও নতুন করে সামনে আসে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আর কখনো প্রশ্নবিদ্ধ হবে না। পাশাপাশি কলম্বিয়া ও কিউবার ওপরও চাপ বাড়ানোর কথাও জানান।

তার দাবি, গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দ্বীপটি রাশিয়া ও চীনের নৌচলাচলের পথে কৌশলগত অবস্থান তৈরি করে— যা ডেনমার্কের পক্ষে নিরাপদ রাখা কঠিন।

এদিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডে বসবাসকারী প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ বহুবার জানিয়েছে— তারা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে রাজি নয়।