বিবিসি ; সুদানের একটি কিন্ডারগার্টেন ড্রোন হামলায় কমপক্ষে ৩৩ শিশুসহ ৫০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। সাউথ কর্দোফান অঞ্চলের কালোগি শহরে ওই হামলার জন্য আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) দায়ী করছে দেশটির সেনাবাহিনী এবং চিকিৎসকদের সংগঠন সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক। সেনাবাহিনী-সমর্থিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, কিন্ডারগার্টেনটিতে দুবার ড্রোন থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করে। আহতদের সাহায্য করতে ছুটে আসা সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসকরাও হামলার শিকার হয়েছেন।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের একজন মুখপাত্র বলেন, স্কুলে শিশু হত্যা ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন। শিশুরা কখনও সংঘাতের মূল্য পরিশোধ করবে না, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সব পক্ষকে অবিলম্বে এ ধরনের হামলা বন্ধ এবং মানবিক সহায়তার জন্য নিরাপদ প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানাই। এ হামলার দায় স্বীকার না করে আরএসএফ পাল্টা অভিযোগে বলেছে, দারফুর অঞ্চলের আদ্রে সীমান্তে একটি জ্বালানির গুদামে শুক্রবার ড্রোন হামলা চালিয়েছে সেনাবাহিনী, যেখানে একটি বাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই পথ দিয়ে মানবিক সহায়তা ও বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশ করে। সংঘাত বিশ্লেষক সংস্থা সুদান ওয়ার মনিটর জানিয়েছে, আদ্রের হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং বাজারে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। সেনাবাহিনীর তরফ থেকে আরএসএফের অভিযোগের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, কোনও পক্ষের অভিযোগই স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে দেশের ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে গৃহযুদ্ধ চলছে। যুদ্ধের আগে দুই পক্ষই মিত্র ছিল। সুদানের রাজধানী খার্তুম ও দারফুরের মধ্যবর্তী কর্দোফান অঞ্চল গৃহযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্টলাইন হয়ে উঠেছে। প্রায় ৮০ লাখ মানুষের বাস এই অঞ্চলে। দারফুরের দিকে সেনাবাহিনীর অগ্রযাত্রার চাপ বাড়ায় কর্দোফান অঞ্চলের সংঘর্ষও তীব্র হয়েছে।