আরটি
আধুনিক নৌ-ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য অভাবনীয় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে তার এই সিদ্ধান্ত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আর কোনো দেশ যুদ্ধজাহাজ বা ব্যাটলশিপ তৈরি না করলেও ট্রাম্প ফিরিয়ে আনছেন সেই বিশালাকায় দানবদের।
‘গোল্ডেন ফ্লিট’ বা সোনালি নৌবহর নামের এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে ২০ থেকে ২৫টি এমন যুদ্ধজাহাজ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার প্রত্যেকটির ওজন হবে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টন। রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত ক্রুজার অ্যাডমিরাল নাখিমভ-এর দাপট কমাতেই ট্রাম্পের এই পাল্টা চাল বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্প এই জাহাজগুলোকে ইতিহাসের সবথেকে শক্তিশালী এবং গতিশীল যুদ্ধজাহাজ হিসেবে দাবি করছেন। প্রকল্পের শুরুতেই তৈরি হবে ‘ইউএসএস ডিফায়েন্ট’ নামক একটি জাহাজ, যার সফলতার ওপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে মোট ২৫টি জাহাজ সমুদ্রে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে পেন্টাগনের। শুধু আকারেই নয়, মারণাস্ত্রের ঘনত্বের দিক থেকেও এগুলো হবে বিশ্বসেরা। লেজার কমব্যাট সিস্টেম, রেলগান এবং হাইপারসনিক মিসাইলে ঠাসা এই জাহাজগুলো যেন সমুদ্রের বুকে এক একটি ভাসমান দুর্গ।
তবে এই বিশাল বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্নও উঠছে বিস্তর। আধুনিক যুদ্ধের যুগে, যেখানে একটি মাত্র নিখুঁত হাইপারসনিক মিসাইল কয়েক বিলিয়ন ডলারের এই জাহাজকে ডুবিয়ে দিতে পারে, সেখানে এমন ‘অতিকায় লক্ষ্যবস্তু’ বানানো কতটা বুদ্ধিমানের কাজ? সমালোচকরা বলছেন, মহাকাশ-ভিত্তিক নজরদারির এই যুগে এসব জাহাজের আয়ু হতে পারে শূন্য।
অবশ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভরসা তার ‘গোল্ডেন শিল্ড’ বা বিশেষ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নাকি এই জাহাজগুলোকে যেকোনো হামলা থেকে রক্ষা করবে। এই নৌ-আধুনিকায়নের তালিকায় শুধু ব্যাটলশিপ নয়, রয়েছে কলম্বিয়া-ক্লাস সাবমেরিন এবং পারমাণবিক শক্তিচালিত নতুন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারও। প্রতিরক্ষা খাতে ট্রাম্পের এই ট্রিলিয়ন ডলারের বাজি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে রাশিয়া ও চীন কীভাবে এর জবাব দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ধারণা করা হচ্ছে, চীন বা রাশিয়া সরাসরি এমন জাহাজ না বানিয়ে বরং এগুলোকে ধ্বংস করার মতো আরও উন্নত অ্যান্টি-শিপ মিসাইল প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করবে।