রয়টার্স : আমেরিকা অঞ্চলে তেলের প্রবাহ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর অংশ হিসেবে ভেনিজুয়েলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ওয়াশিংটন। নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে ভেনিজুয়েলার জলসীমায় অবরোধ আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেরিনেরা নামের ওই ট্যাঙ্কারটি গত মাসে তল্লাশিতে বাধা দিয়ে রুশ পতাকা লাগিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। আটলান্টিকে দুই সপ্তাহের দীর্ঘ ধাওয়ার পর মার্কিন কোস্টগার্ড ও সামরিক বাহিনী এটি জব্দ করে।

ট্যাঙ্কারটি জব্দের সময় কাছেই রাশিয়ার একটি সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছিল। ফলে মস্কোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আগে থেকেই পশ্চিমাদের সঙ্গে রাশিয়ার বিরোধ চলছে। রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করে মেরিনেরা ট্যাঙ্কারে ওঠার চেষ্টা করছে। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এই কর্মকাণ্ডকে ‘দাদাগিরি’ বলে আখ্যা দিয়েছে চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ভেনিজুয়েলার তেলের ওপর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি চাপিয়ে দেওয়া এবং শক্তির নির্লজ্জ ব্যবহার আন্তর্জাতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থি। ট্রাম্পের পরিকল্পনার ফলে বেইজিংয়ের দিকে যাওয়া তেল এখন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চাপ বাড়ছে।

ভেনিজুয়েলার বিশাল তেল খনিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা খোলাখুলিভাবেই ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ভেনিজুয়েলার আটকে থাকা ৫ কোটি ব্যারেল তেল তিনি পরিশোধন ও বিক্রি করবেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লিখেছেন, এই তেল বাজারমূল্যে বিক্রি করা হবে এবং সেই অর্থ আমার (প্রেসিডেন্টের) নিয়ন্ত্রণে থাকবে, যাতে তা ভেনিজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা যায়। গত শনিবার কারাকাসে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর ঝটিকা অভিযানে মাদুরোকে আটকের ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ভেনিজুয়েলার সেনাবাহিনী তাদের ২৩ সদস্যের মৃত্যুর তালিকা প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে মিত্র দেশ কিউবা জানিয়েছে, তাদের ৩২ জন সামরিক ও গোয়েন্দা সদস্য ওই অভিযানে নিহত হয়েছেন।

৬৩ বছর বয়সী নিকোলাস মাদুরোকে বর্তমানে ম্যানহাটনের একটি আদালতে মাদক পাচারের অভিযোগে বিচার করা হচ্ছে। আদালতে তাকে কমলা রঙের কয়েদির পোশাকে ও পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় দেখা গেছে। তবে ট্রাম্প বর্তমানে ভেনিজুয়েলার স্থিতিশীলতার জন্য মাদুরোর পুরনো মিত্রদের সঙ্গেই কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ভেনিজুয়েলার অন্তর্র্বতী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বর্তমানে এক কঠিন পরিস্থিতি পার করছেন। একদিকে তিনি মাদুরোকে ‘অপহরণের’ নিন্দা জানাচ্ছেন, অন্যদিকে ট্রাম্পের হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার পথ খুঁজছেন। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো দেশে ফিরে এসে অবাধ নির্বাচন চাইলেও ট্রাম্পকে চটাতে চাইছেন না। এমনকি তিনি নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং ভেনিজুয়েলাকে আমেরিকার ‘এনার্জি হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়েছেন। ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে সতর্ক করে দিয়েছে যে, ভেনিজুয়েলার কর্মকর্তাদের অবশ্যই সহযোগিতা করতে হবে। অন্যথায় তাদেরও মাদুরোর মতো পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।