রয়টার্স : যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য থেকে গত মাসে আটকের পর মুক্তি পাওয়া পাঁচ বছর বয়সী ইকুয়েডরীয় শিশুটিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এমন তথ্য দিয়েছে।

লিয়াম কোনেহো রামোস নামের ওই শিশুটির আইনজীবী ড্যানিয়েল মলিভার ‘নিউইয়র্ক টাইমস’কে বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন তাঁর মক্কেলকে দ্রুত বিতাড়িত করতে চাইছে। রামোস এ ধরনের পদক্ষেপকে অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ধারণা, ‘প্রতিশোধমূলকভাবে’ এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র ট্রিশা ম্যাকলাফলিন এটাকে বিতাড়নের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলে উল্লেখ করেছেন। ম্যাকলাফলিন বলেন, ‘এটি একটি মানসম্মত প্রক্রিয়া। দেশের অভিবাসন আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিশোধমূলক উদ্দেশ্য নেই।’ লিয়ামের (শিশুটি) আইনজীবী এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের মন্তব্য জানতে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি।

লিয়াম ও তার বাবা অ্যাড্রিয়ান আলেকজান্ডার কোনেহো আরিয়াস—দুজনই অভিবাসনের আবেদনকারী হিসেবে বৈধভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। সম্প্রতি মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে নিজেদের বাড়ির সামনে থেকে বাবা ও ছেলেকে তুলে নিয়ে যান আইসিই সদস্যরা।বাবা ছেলেকে টেক্সাসের ডিলিতে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার (আইসিই, যা আইস নামে পরিচিত) একটি আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। গত ৩১ জানুয়ারি মার্কিন আদালতের এক বিচারক তাঁদের মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেন। মুক্তি পাওয়ার পর তাঁরা আবার মিনেসোটায় ফিরে যান। ট্রাম্প প্রশাসন আইসিইর এমন পদক্ষেপকে সমর্থন জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দাবি, লিয়ামের বাবা কোনেহো আরিয়াস যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে আছেন। তবে তাঁরা এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলেননি।

লিয়ামের বাড়ির সামনে থেকে আইসিইর সদস্যরা তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন। ছবিতে দেখা গেছে, ঘটনার সময় পাঁচ বছর বয়সী ওই শিশু একটি নীল রঙের কানটুপি পরে ছিল। সঙ্গে ছিল ব্যাকপ্যাক। তাকে আটকের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে বেশ আলোচনা তৈরি করেছিল। অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে ট্রাম্প মিনেসোটায় আইসিইর কয়েক হাজার কর্মকর্তাকে মোতায়েন করেন। এ নিয়ে মিনেসোটার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ শুরু হয়। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে আইসিইর কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর বিক্ষোভ জোরালো হয়ে ওঠে।