আল জাজিরা : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে দ্রুত কোনো সাফল্য না পাওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাপে পড়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড এবং ব্যাপক বোমাবর্ষণের পরও তেহরান আলোচনায় ফেরার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। গত শনিবার খামেনির হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে ফিরতে রাজি নন। বরং ইরান পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছে। ইরান শুধু মার্কিন সামরিক স্থাপনাই নয়, প্রয়োজনে বেসামরিক এলাকায়ও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজেও আঘাত হানার সতর্কতা দিয়েছে তারা। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে তারা দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। তাদের মতে, যেকোনো আলোচনার আগে প্রতিরোধ গড়ে তোলাকে তারা জরুরি মনে করছে। এদিকে সংঘাত কতদিন চলবে সে বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যও পরস্পরবিরোধী। কখনো তিনি বলেছেন যুদ্ধ কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হতে পারে, আবার কখনো বলেছেন এটি পাঁচ সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় চলতে পারে। তিনি একদিকে ইরানি জনগণের স্বাধীনতার কথা বলছেন, অন্যদিকে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের সঙ্গেও সমঝোতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অস্পষ্টতা মূলত দ্রুত বিজয় অর্জনে ব্যর্থতাকে আড়াল করার চেষ্টা। কারণ ট্রাম্প অতীতে সাধারণত এমন সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছেন যেখানে দ্রুত সাফল্যের সম্ভাবনা ছিল। এর উদাহরণ হিসেবে গত বছর ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযানকে তুলে ধরা হয়। তখন দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের সম্ভাবনা দেখা দিলে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতায় যেতে রাজি হন।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ হলে মার্কিন হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে, বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে ইরান কিছুটা দুর্বল হলেও দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো এখনো ভেঙে পড়েনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু বিমান হামলার মাধ্যমে এমন একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রব্যবস্থাকে দ্রুত পতনের দিকে ঠেলে দেওয়া কঠিন। এদিকে ট্রাম্প ইরানের পরিস্থিতিকে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার মতে, ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে পড়লে নতুন নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে পারে।

তবে আপাতত ইরান সেই পথে হাঁটার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। তেহরানের আশঙ্কা, এখনই কোনো প্রতিরোধ ছাড়া আলোচনায় গেলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আবারও হামলার সুযোগ খুঁজবে। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।