এপি, রয়টার্স : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে দাবি করেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ‘স্বর্ণযুগ’ ফিরিয়ে এনেছেন। কিন্তু জনমত জরিপ বলছে, অর্থনীতি নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। বলা হয়েছে, মঙ্গলবার কংগ্রেসে দেওয়া দীর্ঘ এই ভাষণে ট্রাম্প মূলত অর্থনীতির দিকেই বেশি নজর দেন। তিনি বলেন, তার আমলে মূল্যস্ফীতি কমেছে, শেয়ারবাজার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, কর কমেছে এবং ওষুধের দামও কমেছে। রিপাবলিকান নেতারা তাকে এই বার্তা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কারণ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দলটির জনপ্রিয়তা নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই চিত্রায়নের সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক আছে। জিনিসপত্রের দাম, বাড়ি ভাড়া, বিমা, সবকিছুর ব্যয় আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৬ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের অর্থনীতি নিয়ে সন্তুষ্ট।
এই ভাষণে ট্রাম্প তার পুরোনো বক্তব্যই বহাল রেখেছেন। অভিবাসন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে তুমুল বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে ডেমোক্র্যাট ইলহান ওমর চিৎকার করে বলেন, ‘আপনি আমেরিকানদের হত্যা করেছেন!’ পরে তাকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। ভাষণের শুরুতে ট্রাম্প শুধু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের কাছেই করতালি পেয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের অনেকেই এই ভাষণ বয়কট করে বাইরে প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন। ভাষণটি ছিল এক ঘণ্টা ৪৭ মিনিটের, যা যৌথ অধিবেশনে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া দীর্ঘতম ভাষণের রেকর্ড ভেঙেছে। সেখানে মঞ্চস্থ হয় বিভিন্ন নাটকীয়তা। শীতকালীন অলিম্পিকে সোনাজয়ী হকি দলের সদস্যদের ডেকে এনে তাদের সম্মানিত করেন ট্রাম্প। গোলরক্ষক কনর হেলেবাককে প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
ইরান নিয়ে ভাষণে কোনও স্পষ্ট বার্তা দেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমি কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান চাই। তবে বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসী রাষ্ট্রকে আমি কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেব না। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে খুব কম কথা বলেছেন ট্রাম্প। চীন বা গ্রিনল্যান্ড নিয়েও কোনও বক্তব্য ছিল না হয়নি তার ভাষণে। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে আনুষ্ঠানিক জবাব দেন ভার্জিনিয়ার গভর্নর অ্যাবিগেল স্প্যানবার্গার। তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ কমানোর জন্য ট্রাম্প কিছুই করছেন না।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্থির হয়ে উঠছেন ট্রাম্প: জরিপ
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও অস্থির হয়ে উঠেছেন বলে মনে করেন মার্কিনিরা। প্রতি ১০ জন আমেরিকানের মধ্যে ছয়জনই এ কথার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। ঐকমত্য হওয়াদের মধ্যে অনেকেই রিপাবলিকান। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, ছয় দিনের এ জরিপ গত সোমবার শেষ হয়। আর মঙ্গলবার ৭৯ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসে স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণ দেবেন।
জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ মানুষ বলেছে, ট্রাম্প বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্থির হয়ে উঠেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮৯ শতাংশ ডেমোক্র্যাট, ৩০ শতাংশ রিপাবলিকান এবং ৬৪ শতাংশ স্বাধীন মতাধিকারী।
১৮ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চালানো এ জরিপে চার হাজার ৬৩৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিনি অংশ নেন। ট্রাম্প মানসিকভাবে তীক্ষ্ম এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার ক্ষমতা রাখেন এমন প্রশ্নে সায় দিয়েছে জরিপে অংশ নেওয়া ৪৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিনি। এ প্রশ্নে উত্তর দেয়নি ছয় শতাংশ। আর ভিন্নমত পোষণ করেছে ৪৯ শতাংশ। জরিপের ফলাফলকে মিথ্যা ও হতাশাজনক আখ্যা দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল। তিনি বলেন, “ট্রাম্পের তীক্ষ্ণতা, অতুলনীয় শক্তি এবং জনসাধারণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষমতা তাকে তার পূর্বসূরি ডেমোক্র্যাট জো বাইডেন থেকে আলাদা করে।”
ট্রাম্পের সামগ্রিক জনপ্রিয়তা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। সর্বশেষ জরিপে প্রায় ৪০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মক্ষমতাকে অনুমোদন করেছেন, যা এ মাসের শুরুর তুলনায় দুই শতাংশ বেশি। যদিও তিনি তার মেয়াদ শুরু করেছিলেন তুলনামূলকভাবে বেশি রেটিং নিয়ে।