ভেনেজুয়েলা বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও এর মাটির নিচে লুকিয়ে আছে আরও অসংখ্য মূল্যবান খনিজ সম্পদ। সম্প্রতি নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন পুনর্গঠনের পাশাপাশি এর বিশাল খনিজ খাত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক জানিয়েছেন যে দেশটিতে ইস্পাত ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানের যে বিশাল ভাণ্ডার মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসন তা পুনরুদ্ধারে কাজ করবে। তেল সম্পদের কথা বলতে গেলে, ভেনেজুয়েলায় ২০২৩ সাল নাগাদ প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুত পাওয়া গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের চেয়ে পাঁচ গুণেরও বেশি। ওরিনোকো উপত্যকায় অবস্থিত এই তেলের অধিকাংশ ‘অতি-ভারী’ হওয়ায় এটি উত্তোলন ও পরিশোধন করা বেশ জটিল এবং ব্যয়বহুল। তা সত্ত্বেও, গত এক দশকে চীন ছিল ভেনেজুয়েলার তেলের প্রধান ক্রেতা। ২০২৪ সালের শেষ দিকে দেশটির মোট রপ্তানির প্রায় ৮১.৭ শতাংশই কিনেছে চীন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র কিনেছে মাত্র ১৫.৮ শতাংশ। তেলের বাইরেও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুতে ভেনেজুয়েলা বিশ্বে নবম এবং দক্ষিণ আমেরিকার মোট মজুতের ৭৩ শতাংশই এই দেশটির অধীনে। এ ছাড়া ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারি স্বর্ণের মজুত রয়েছে এখানেই। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে প্রায় ১৬১ মেট্রিক টন স্বর্ণ ছাড়াও ‘ওরিনোকো মাইনিং আর্ক’ অঞ্চলে আরও বিপুল পরিমাণ অব্যবহৃত স্বর্ণের ভাণ্ডার রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ২০১৮ সালের এক খনিজ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে অন্তত ৬৪৪ মেট্রিক টন স্বর্ণ থাকার অনুমান করা হয়েছে, যদিও সরকারি দাবি অনুযায়ী এই পরিমাণ আরও অনেক বেশি। স্বর্ণ ও গ্যাসের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলায় রয়েছে ৩ বিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা এবং প্রায় ১৪.৬৮ বিলিয়ন মেট্রিক টন লোহার আকরিক। শিল্প খাতের জন্য প্রয়োজনীয় নিকেল ও বক্সাইটের বিশাল মজুতও দেশটিতে বিদ্যমান। হীরা উৎপাদনের ক্ষেত্রেও দেশটি বেশ সমৃদ্ধ। দেশটির বিভিন্ন খনিতে প্রায় ১,২৯৫ মিলিয়ন ক্যারেট হীরার মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে এই খনিজ ক্ষেত্রগুলোর একটি বড় অংশ বর্তমানে রাষ্ট্রবহির্ভূত সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য হলো এই সম্পদগুলোকে পুনরায় আন্তর্জাতিক বাজারের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা।