এপি, রয়টার্স, এনবিসি নিউজ : ২০১৯ সালে নিউ ইয়র্কের কারাগারে রহস্যজনক মৃত্যুর সাত বছর পরও বিতর্ক পিছু ছাড়ছেন না জেফ্রি এপস্টেইন। মার্কিন বিচার বিভাগ ৩০ জানুয়ারি কুখ্যাত এই যৌন অপরাধীর বিষয়ে নতুন করে আরও কয়েক লাখ পৃষ্ঠার গোপন নথি উন্মুক্ত করেছে। এই বিশাল নথিতে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, বিশ্বখ্যাত ব্যবসায়ী ও রাজপরিবারের সদস্যদের নাম ও সংশ্লিষ্টতা আসার পর ওয়াশিংটন থেকে লন্ডন, সবখানেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। নতুন এই নথিগুলো কেবল পুরনো অভিযোগের পুনরাবৃত্তি নয়, বরং এতে উঠে এসেছে কীভাবে বিশ্বনেতা, বিজ্ঞানী এবং ব্যবসায়ীরা একটি সুসংগঠিত যৌন পাচার চক্রের অংশ বা সহযোগী হয়ে উঠেছিলেন।

নথি প্রকাশের নেপথ্য কারণ: ২০১৫ সালে এপস্টেইনের অন্যতম ভুক্তভোগী ভার্জিনিয়া জুফ্রে তার সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে একটি মানহানি মামলা করেন। সেই মামলার রেশ ধরেই বছরের পর বছর ধরে সিলগালা থাকা ফাইলগুলো জনসমক্ষে আনার দাবি ওঠে। মার্কিন কংগ্রেসের প্রবল চাপের মুখে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগ ধাপে ধাপে এসব নথি উন্মুক্ত করছে। জানুয়ারিতে প্রকাশিত এই কিস্তিটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় তথ্যভাণ্ডার।

নতুন নথিতে যা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা: নতুন প্রকাশিত নথিতে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট বিষয় বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে: প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা: এবারের নথিতে বিল ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম বারবার এসেছে। ক্লিনটনের ক্ষেত্রে দাবি করা হয়েছে, এপস্টেইন বিভিন্ন আড্ডায় ক্লিনটনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার বড়াই করতেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বিমানে যাতায়াত এবং তার ক্যাসিনোতে এপস্টেইনের আনাগোনার নতুন কিছু প্রমাণ এই নথিতে পাওয়া গেছে। যদিও উভয়েই কোনও ধরনের অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। ব্ল্যাকমেইল ও ভিডিও রেকর্ডিং: তদন্তকারীদের ডায়েরি এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ থেকে জানা গেছে, এপস্টেইন তার ব্যক্তিগত দ্বীপ ‘লিটল সেন্ট জেমস’-এর প্রতিটি ঘরে গোপন ক্যামেরা বসিয়েছিলেন। নতুন নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, আগত অতিথিদের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে রাখা হতো যাতে ভবিষ্যতে তাঁদের ব্ল্যাকমেইল করা যায়। এফবিআই-এর জব্দ করা কিছু হার্ডড্রাইভের বর্ণনায় এমন অনেক ভিডিওর উল্লেখ রয়েছে যা আগে কখনোই জানা যায়নি।