এপি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড : ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রণকৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা বা এসকর্ট দেওয়ার মতো প্রস্তুতি এই মুহূর্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নেই। দেশটির জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট গত বৃহস্পতিবার এই তথ্য স্বীকার করেছেন। মার্কিন জ্বালানি সচিব জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত সামরিক সক্ষমতা ইরানের আক্রমণাত্মক ক্ষমতা এবং তাদের অস্ত্র উৎপাদনকারী শিল্পগুলো ধ্বংস করার কাজে নিয়োজিত। ফলে জ্বালানি পরিবহনে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বাড়তি কোনও সরঞ্জাম বা জনবল এখন খালি নেই।
ইরাক উপকূলে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলায় অন্তত একজন নিহত হওয়ার পর তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, এই যুদ্ধ বিশ্ব তেলের বাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সরবরাহ বিপর্যয় তৈরি করছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। বর্তমানে এই পথটি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আইইএ সদস্য দেশগুলো তাদের মজুদ থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একাই ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়বে।
বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। বিশেষ করে ভারতকে সাময়িকভাবে রুশ তেল কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে ক্রিস রাইট একে রাশিয়ার জন্য ‘নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি’ হিসেবে মানতে নারাজ। তিনি বলেন, এটি একটি বাস্তবসম্মত সমাধান। এই তেলগুলো ইতোমধ্যে চীনের উদ্দেশ্যে জাহাজে ভাসমান অবস্থায় ছিল।
জ্বালানি সচিব সিএনবিসি-কে বলেন, ট্যাঙ্কারগুলোকে পাহারা দেওয়ার কাজ এখনই শুরু করা সম্ভব নয়, তবে খুব শিগগিরই এটি হতে পারে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি গত বৃহস্পতিবার পেন্টাগনে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলেও জানান। এদিকে, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো ফ্লোরিডায় রুশ ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ এই বৈঠককে ‘ফলপ্রসূ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখন রুশ তেলের গুরুত্ব আরও ভালোভাবে বুঝতে পারছে।