দ্য গার্ডিয়ান,টিআরটি ওয়ার্ল্ড, রয়টার্স ,এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ এড়িয়ে যেতে চান। সম্ভাব্য একটি পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে আরও আলোচনা করার পরিকল্পনাও তাঁর রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার স্ত্রী মেলানিয়াকে নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রের উদ্বোধনীতে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমার প্রথম মেয়াদে আমি সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করেছি, আর এখন আমাদের একটি বাহিনী ইরান নামের একটি স্থানের দিকে এগোচ্ছে। আশা করি আমাদের সেটি ব্যবহার করতে হবে না।’

ইরানের সঙ্গে তিনি আলোচনা করবেন কি না এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আগেও আলোচনা করেছি, আবার করার পরিকল্পনাও রয়েছে। হ্যাঁ, এই মুহূর্তে আমাদের অনেক বড় ও অত্যন্ত শক্তিশালী জাহাজ ইরানের দিকে যাত্রা করছে। তবে সেগুলো যদি ব্যবহার করতে না হয়, সেটাই হবে সবচেয়ে ভালো।’ ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, কয়েক দিন ধরেই এমন জল্পনা-কল্পনা চলছে। এরই মধ্যে গত সোমবার মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরিসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান অভিমুখে আরও নৌবহর পাঠানোর কথা জানিয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে সামরিক মহড়া চালানোরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরমাণু কর্মসূচি এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করার শর্তে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছেন, গত কয়েক দিনে ইরানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং আমি আরও আলোচনা করার পরিকল্পনা করছি। বর্তমানে একটি বড় ও শক্তিশালী মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তবে আশা করা হচ্ছে, এগুলো ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে না। ইরানের প্রতি নিজের বার্তা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেছেন, আমি তাদের দুটি কথা বলতে চাই। এক, পরমাণু অস্ত্র তৈরি বন্ধ করুন; দুই, বিক্ষোভকারীদের হত্যার বিষয়টি বন্ধ করুন।

এদিকে গত মঙ্গলবার এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আরও একটি সুসজ্জিত নৌবহর ইরানের পথে আছে। আমি আশা করছি, তারা (ইরান) সমঝোতা করতে রাজি হবে।’ অবশ্য ট্রাম্পের এমন হুমকিকে পাত্তা দিচ্ছে না ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত বুধবার বলেছেন, ইরানকে হুমকি দিলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সামরিক হুমকি দিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো কোনো ফলপ্রসূ উপায় হতে পারে না। যদি তারা আলোচনায় বসতেই চায়, তাহলে হুমকি ও অযৌক্তিক প্রসঙ্গ তোলা বাদ দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বিমানবাহিনীর শাখা এয়ার ফোর্সেস সেন্ট্রাল গত মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে একটি প্রস্তুতিমূলক সামরিক মহড়া চালাবে। কয়েক দিন চলবে মহড়া। সেন্টকমের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় যুদ্ধবিমান মোতায়েন ও সক্ষমতা প্রদর্শন করা এ মহড়ার উদ্দেশ্য। আঞ্চলিক অংশীদারত্ব জোরদার করা ও হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিতে মহড়ার নকশা করা হয়েছে।

তবে মহড়ার দিন-তারিখ, স্থান ও কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে, তার কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা দেখানোর উদ্দেশ্যে মহড়াটি সাজানো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। গত সোমবার সেন্টকম জানিয়েছে, পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি বড় নৌবহর ওই অঞ্চলে পৌঁছেছে। কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও প্রায় ৫ হাজার নাবিক বহনকারী এ বিমানবাহী রণতরিতে একাধিক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ডেস্ট্রয়ার রয়েছে। যেকোনো হামলা থেকে নৌবহরকে সুরক্ষা দিতে এ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে কোনো দেশকে সৌদি আরবের আকাশসীমা ও ভূখ- ব্যবহার করতে দেবে না রিয়াদ। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এক ফোনালাপে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।