এএফপি
“আপনাদের (রিপাবলিকানদের) মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিততে হবে কারণ, আমরা যদি মধ্যবর্তী নির্বাচনে না জিতি, তাহলে- মানে, ওরা আমাকে অভিশংসন করার একটা কারণ খুঁজে বের করবে,” ওয়াশিংটনে প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান সদস্যদের এক সম্মেলনে বক্তৃতা করার সময় ট্রাম্প এ কথা বলেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিততে না পারলে ট্রাম্পের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভাটা পড়তে পারে, এমনকি কংগ্রেসের তদন্তের মুখোমুখি হতে পারেন তিনি। নির্বাচনের আগে তাই যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের মিত্রদের সাথে যোগসাজশ করছেন ট্রাম্প। জীবনযাপনের খরচ নিয়ে ইতোমধ্যেই আমেরিকান ভোটাররা ক্ষুব্ধ। এমন অবস্থায় ট্রাম্প চাইছেন তার মিত্ররা নিজেদের বিরোধ ভুলে হাত মেলাবে এবং ট্রাম্পের বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করবে।
ট্রাম্পের মস্তিস্ক অচল, যুক্তরাষ্ট্র ভয়াবহ স্বৈরশাসকের হাতে আটকা পড়েছে
ব্রিটিশ গবেষক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হাইম ব্রেশিথ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এমন এক স্বৈরশাসক হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার মস্তিষ্ক কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এবং যিনি বিশ্বকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিয়েছেন।
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের বিষয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরে তিনি বলেন, আজ আমেরিকা পরিণত হয়েছে একটি ক্লান্ত সাম্রাজ্যে—যার অর্থনীতি হাঁপিয়ে উঠেছে, তাদের কারণে সৃষ্ট যুদ্ধগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং নিজের সৃষ্টি করা বিশৃঙ্খলাই এখন তার দিকে ফিরে আসছে। এর ফলে তাদের মুদ্রা ডলার ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাচ্ছে। -- পার্সটুডে
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রেশিথ জোর দিয়ে বলেছেন, “বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প নামের এক তুচ্ছ ও শিশুসুলভ স্বৈরশাসকের মাধ্যমে, যার মস্তিষ্ক ঠিকমতো কাজ করে না।
এই গবেষক বলেন, আমেরিকানরা একসময়ের নিষ্ঠুর বৈশ্বিক শক্তি থেকে এখন পতনশীল একটি দেশে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, তারা এখন ক্যারিবীয় অঞ্চলের জলদস্যুতে পরিণত হয়েছে এবং ভূমধ্যসাগরের গণহত্যাকারী জলদস্যুদের (ইসরাইল) সঙ্গে হাত মিলিয়ে চারপাশে ক্ষতি সাধন করছে—প্রতিদিন আরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং যাকে ইচ্ছা অপহরণ করছে।
ব্রেশিথ আশা প্রকাশ বলেন, আশাকরি ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মতো অপরাধী সত্তার বিরুদ্ধে আরও স্পষ্টভাবে দাঁড়াবে।
এই ব্রিটিশ লেখক বলেন, শুরুতেই চীন ও রাশিয়ার উচিত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ ঠেকানো। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের আশপাশে ক্ষতি করতেই থাকবে এবং পারমাণবিক যুদ্ধকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসবে।
ব্রেশিথ আরও বলেন, আমরা এখন সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ ভাঙন প্রত্যক্ষ করছি—জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা এর বাইরে নয়। আর সবচেয়ে ভয়াবহ হলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার উদ্যোগ ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে, এটাও যুক্তরাষ্ট্র করছে, যা পারমাণবিক যুদ্ধ ছাড়াও পৃথিবীর জীবনকে ভয়াবহ করে তুলবে।
এই গবেষকের মতে, ভেনেজুয়েলাকে লুট ও ধ্বংস করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ আসলে লিবিয়া, ইরাক, লেবানন, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও সোমালিয়া ধ্বংসের ধারাবাহিকতারই অংশ।