রয়টার্স , সিবিএস নিউজ
সিরিয়ায় মোতায়েন থাকা অবশিষ্ট মার্কিন সেনাদের আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউজের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন, সিরিয়া সরকার নিজ দেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবাদ দমনে নেতৃত্ব দিতে সম্মত হওয়ায় সেখানে বড় পরিসরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির আর প্রয়োজন নেই। ২০১৫ সাল থেকে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রভাব মোকাবিলায় সিরিয়ায় মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। তবে বর্তমানে দেশটিতে আইএসের শক্তি কমে আসা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে আসাদ সরকারের পতন এবং সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক সম্পর্কের ফলে এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে।
সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানের সঙ্গে চরম উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিবিসি ভেরিফাই নিশ্চিত করেছে যে, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং কয়েক ডজন ফাইটার জেটসহ বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন বর্তমানে ইরানের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এছাড়া বিশ্বের বৃহত্তম রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এই অঞ্চলে পৌঁছাবে বলে জানা গেছে।
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী শনিবারের মধ্যেই ইরানে সম্ভাব্য হামলার জন্য সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। গত নভেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যা দুই দেশের ইতিহাসে কোনও সিরীয় নেতার প্রথম সফর। গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শায়বানির সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর আগে জানুয়ারি মাসে এক চুক্তির মাধ্যমে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসকে (এসডিএফ) সিরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে একীভূত করার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে। সিরিয়া থেকে সেনা সরানোর প্রক্রিয়াটি ‘শর্তসাপেক্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে হোয়াইট হাউজ। গত ডিসেম্বরে সিরিয়ার পালমিরায় আইএসের চোরাগোপ্তা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্য ও একজন দোভাষী নিহত হন। এর জবাবে ট্রাম্প প্রশাসন‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক নামে আইএসের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিরিয়া থেকে প্রায় ১ হাজার সেনা সরিয়ে নেওয়া হলেও ওই অঞ্চলে যেকোনও হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।