মেহের নিউজ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অধীনে দেশটির সার্বিক অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার পৃথকভাবে এ সমালোচনা করেন তারা। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের আগের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামা ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ফেডারেল সরকারকে পুনর্গঠন, অভিবাসন ও মতবিরোধ দমনে কঠোরতা এবং সংবাদমাধ্যম ও আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভয় দেখানোর প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান।
ওবামা বলেন, ‘অনেকদিন পর প্রথমবারের মতো আমি প্রকাশ্যে কিছু বলছি। আমি কিছুদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করছিলাম’। তার ভাষায়, ‘ভাবুন তো, আমি যদি এগুলোর কোনো একটা করতাম! কল্পনাও করা যায় না যে, যারা এখন চুপ করে আছেন, তারা এমন (ট্রাম্পের মতো) আচরণ আমার কিংবা আমার পূর্বসূরিদের কাছ থেকে সহ্য করতেন!’ ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণার সমালোচনা করে ওবামা বলেন, ‘আমি মনে করি না, এটা আমেরিকার জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে’। একই সঙ্গে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন হোয়াইট হাউজের তরফ থেকে অধিকার হরণের প্রচেষ্টাকে ঘিরে। ওবামা বলেন, ‘একটি ফেডারেল সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে হুমকি দেয় যে, তারা যদি বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের নাম প্রকাশ না করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে – এটা খুবই উদ্বেগজনক’।
সাবেক এই প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘হোয়াইট হাউজ যদি আইনজীবীদের বলে, ‘তোমরা এমন কোনো পক্ষের হয়ে মামলা লড়তে পারবে না, যাদের আমরা পছন্দ করি না’, তাহলে আমরা তোমাদের সব কাজ বন্ধ করে দেব Í এ ধরণের আচরণ আমাদের আমেরিকান মৌলিক চুক্তির পরিপন্থি’। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের শেষ সময়ে কমলা হ্যারিসের পক্ষে প্রচার চালানোর সময় ওবামা আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, ট্রাম্প পুনর্র্নিবাচিত হলে তা দেশটির জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
তিনি সে সময় বলেছিলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) শুধু কিছুটা ‘গোঁফি’ বা হাস্যকর আচরণ করেন, তাই বলে এটা ভাবার কারণ নেই যে, তার প্রেসিডেন্সি বিপজ্জনক হবে না’।