৩ এপ্রিল, ইন্ডিয়া টুডে : নতুন করে পণ্য আমদানিতে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তিনি বেশ কয়েকটি দেশের ওপর সর্বনিম্ন ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র কয়েকটি দেশের নামও আছে ওই তালিকায়। কিন্তু ট্রাম্পের সর্বশেষ শুল্ক আরোপের তালিকায় নেই রাশিয়া, কানাডা, মেক্সিকো, উত্তর কোরিয়া, কিউবাসহ আরও কয়েকটি দেশের নাম। কী কারণে ট্রাম্প এসব দেশকে বাদ দিলেন? ওয়াশিংটনের স্থানীয় গত বুধবার বিকাল চারটায় হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার ট্রাম্প যাদের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন, এর মধ্যে ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভিয়েতনামের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাণিজ্যিক অংশীদারেরাও রয়েছে। ভারতের ওপর ২৭ শতাংশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ২০ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ওপর ৪৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তবে কেন নেই রাশিয়া, কানাডা, মেক্সিকো, উত্তর কোরিয়া কিংবা কিউবার নাম? দেশগুলো কি আসলেই ট্রাম্পের শুল্ক খাঁড়া থেকে বাঁচতে পেরেছে? প্রতিবেশী দুই দেশ কানাডা ও মেক্সিকোর পণ্যের ওপর আগেই ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কানাডার জ্বালানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির (ইউএসএমসিএ) আওতায় যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে, সেগুলো এখনো নতুন শুল্কের আওতামুক্ত রয়েছে। তবে গাড়ির যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য পণ্যের ওপর গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হয়।

ট্রাম্পের সর্বশেষ শুল্ক আরোপের তালিকায় কেন রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, কিউবা ও বেলারুশের নাম নেই, তার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, এসব দেশের ওপর আগে থেকেই বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। যে কারণে দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য খুবই সামান্য। ওই কর্মকর্তা বলেন, এসব দেশ আগে থেকেই অতি উচ্চ শুল্কের মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া দেশগুলোর ওপর আমরা আগেই যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছি, তাতে তাদের সঙ্গে কোনো অর্থপূর্ণ বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে ওঠা সম্ভব নয়। ভারতভিত্তিক বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম জিরাফ-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা সৌরভ ঘোষ রাশিয়ার ওপর শুল্ক আরোপ না করার আরেকটি সম্ভাব্য কারণের কথা বলেছেন। সেটা হলো ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে চলমান আলোচনা।

সৌরভ ঘোষ বলেন, রাশিয়ার ওপর যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা আছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য এমনিতেই তলানিতে। তার ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে পুতিনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চান, তবে তাকে রাশিয়ার প্রতি সমর্থনমূলক আচরণ করতে হবে। যেসব দেশ রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কিনছে, সেসব দেশের ওপর ট্রাম্প নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেসব দেশের উচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তারাই মূলত এবার ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৯ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। চীনের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। সৌরভ ঘোষ ব্যাখ্যা দিয়ে আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এশিয়ার দেশগুলোর বাণিজ্য ঘাটতি বেশি, তাই স্বাভাবিকভাবে তালিকায় তাদের নামই বেশি। সৌরভ বলছেন, তার ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, অভ্যন্তরীণ মূল্য সংযোজন কর এবং অন্যায্য মুদ্রা হারসহ অ-শুল্ক বাধাগুলো পারস্পরিক শুল্ক নির্ধারণে ভূমিকা পালন করেছে। মনে হচ্ছে, অন্যান্য অন্তর্নিহিত মানদণ্ডকে বিবেচনায় না এনে বাণিজ্যে ভারসাম্য আনাই শুল্ক আরোপে মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে। সৌরভের মতে, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের তালিকায় যেসব দেশের নাম সবচেয়ে অবাক করা তার অন্যতম দুটি হলো, জাপান (২৪ শতাংশ) ও ভিয়েতনাম (৪৬ শতাংশ)। ট্রাম্পের এই শুল্ক এরই মধ্যে বিশ্ববাণিজ্যে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। কানাডা ও মেক্সিকো পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো শুল্কের প্রভাব মোকাবিলা ও তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে। আর রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া আপাতত ট্রাম্পের লক্ষ্যবস্তুর বাইরে রয়েছে। তবে আগামী কয়েক মাসে কূটনৈতিক সম্পর্ক কেমন থাকে তার ভিত্তিতে সবকিছু বদলে যেতে পারে।