দ্য টেলিগ্রাফ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর শান্তি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। একই সঙ্গে ট্রাম্পের ‘চুক্তি কাছাকাছি’—এমন দাবিকেও উপহাস করেছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো ১৫ দফা প্রস্তাবে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্রের পরিধি সীমিত করা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্ত ছিল। তবে ইরান এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, এতে বাস্তব শক্তির ভারসাম্য প্রতিফলিত হয়নি।

তাদের বক্তব্য, নিজেদের শর্ত পূরণ হলেই কেবল যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে। এর আগে সরাসরি আলোচনার দাবি নাকচ করে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে কটাক্ষ করে বলেছিল, ‘আপনারা নিজেদের সঙ্গেই আলোচনা করছেন।’ অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংলাপের পথ এখনো খোলা থাকলেও শর্ত না মানলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ট্রাম্পের মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজনে ইরানের ওপর ‘নরক নামিয়ে আনা’ হবে।

এদিকে সম্ভাব্য সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত নৌ ও মেরিন বাহিনী মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময় ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, শান্তি আলোচনা ‘ভালো ও ফলপ্রসূ’ হচ্ছে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি আঞ্চলিক দেশের সহায়তায় ইরানের একটি দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে। ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আগ্রাসন বন্ধ, ভবিষ্যতে হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা, ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্তৃত্ব স্বীকার। তেহরানের মতে, প্রণালিটির ওপর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ তাদের আইনগত অধিকার।

এ পরিস্থিতির মধ্যেই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একটি ক্ষেপণাস্ত্রে বার্তা লিখে ট্রাম্পকে কটাক্ষ করেছে। সেখানে লেখা হয়, ‘এটাই সেই উপহার, যা নির্বোধ ট্রাম্প বলেছিলেন’—এবং তাকে উদ্দেশ করে বলা হয়, ‘আমাদের এই উপহার গ্রহণ করুন।’ এই বার্তাটি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া, যেখানে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ উপহার’ দিয়েছে এবং যুদ্ধ অবসানের পথে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় দুই পক্ষের অবস্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে, কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো অনেক দূরের।