এপি, মিডল ইস্ট আই : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনার জন্য পাকিস্তানে যাচ্ছে উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদল। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শুক্রবার তারা ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং আগামী কাল শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেবেন।

প্রতিনিধিদলে জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও তার দল অংশ নিতে পারেন। তবে ইসরাইলের কোনও প্রতিনিধি এই বৈঠকে সরাসরি উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

এতদিন যুদ্ধের প্রচারণা থেকে দূরে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার নেতৃত্বে রাখা নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল ভূমিকা পালন করছেন। তিনি প্রেসিডেন্টের ডান হাত।’

এর আগে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় ভ্যান্সই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি বিরোধী অবস্থানে ছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন ইরানে হামলা শুরু হয়, তখন ট্রাম্পের ফ্লোরিডা রিসোর্টে উপস্থিত কর্মকর্তাদের তালিকায় তাকে দেখা যায়নি। বরং তিনি তখন ওয়াশিংটনে যুদ্ধবিরোধী হিসেবে পরিচিত আরেক নেত্রী তুলসী গ্যাবার্ডের সঙ্গে ছিলেন। যুদ্ধবিরতি নিয়ে এরই মধ্যে বিপরীতমুখী বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। ইরান দাবি করছে, এই যুদ্ধবিরতি ইরাক, লেবানন ও ইয়েমেনের সংঘাতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অন্যদিকে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, লেবানন এই চুক্তির আওতাভুক্ত নয়। লেভিট বলেন, ‘লেবানন যুদ্ধবিরতির অংশ নয়। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি একজন সহায়ক অংশীদার হিসেবে কাজ করবেন। উল্লেখ্য, গত বুধবার বৈরুতে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। হিজবুল্লাহর ওপর হামলাকে ইরান নিজেদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এর ফলে সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের চাওয়া অনুযায়ী অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি কোনও বাধা ছাড়াই খুলে দেওয়ার বিষয়টি এই আলোচনার অন্যতম প্রধান শর্ত। চুক্তির ১০ দফা পরিকল্পনার একটি শর্তে বলা হয়েছে, ইরান এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজ থেকে ২০ লাখ ডলার ফি নেবে, যা ওমানের সঙ্গে ভাগ করা হবে।

যদিও ওমান জানিয়েছে তারা এ ধরনের কোনও ফি নেবে না। এছাড়া ইরানের হাতে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে ট্রাম্পের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন লেভিট। তিনি বলেন, ‘ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে এবং এটি তার জন্য একটি চূড়ান্ত সীমা। যদিও ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, বেসামরিক কাজে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তাদের রয়েছে