ইন্টারনেট : যেসব দেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ ‘বেসলাইন’ বা ‘প্রাথমিক’ শুল্ক আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, গতকাল শনিবার থেকে তা কার্যকর হয়েছে এবং তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের কর্মকর্তরা সেই শুল্ক সংগ্রহ করারও শুরু করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, এমন সব দেশের পূর্বকার রপ্তানি শুল্ক বাতিল করে নতুন শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। গত ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকেল ৪ টায় ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করেন ট্রাম্প।

মার্কিন অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্যের নিরিখে নতুন এই শুল্কনীতি তৈরি করা হয়েছে। যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপেক্ষাকৃত বেশি আমদানি করে, সেসব দেশের ওপর ১০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্পের মতে এটি হচ্ছে ‘বেসলাইন’ বা প্রাথমিক শুল্ক।

অন্যদিকে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপেক্ষাকৃত কম আমদানি করে, তাদের রপ্তানি শুল্কের হারও বেশি। সবচেয়ে বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ভিয়েতনামের ওপর ৪৬ শতাংশ। ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি পর্যালোচনা করে যানা গেছে, মাত্র ১২টি দেশের ওপর বেসলাইন শুল্ক জারি করেছেন তিনি। দেশগুলো হলোÍ যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, তুরস্ক, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা, এল সালভাদর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর এবং সৌদি আরব।

বাকি সব দেশের ওপর ধার্যকৃত শুল্কের হার ১০ শতাংশের বেশি। ২ তারিখ ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলন মেষে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, যেসব দেশের ওপর বেসলাইন শুল্ক ধার্য করা হয়েছে, সেই শুল্ক সংগ্রহ করা শুরু হবে ৫ এপ্রিল থেকে। আর যেসব দেশের ওপর আরোপিত শুল্কের হার ১০ শতাংশের বেশি, তাদের শুল্ক সংগ্রহ শুরু হবে ৯ এপ্রিল থেকে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টার পদে ছিলেন কেলি অ্যান শ’। বর্তমানে তিনি হোগান লোভেলস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্য বিষয়ক আইনজীবী হিসেবে কর্মরত আছেন। “আমি আমার জীবনে এত বড় একক বাণিজ্যিক পদক্ষেপ এর আগে দেখিনি। এটা সত্যিই বিশাল এবং ব্যাপক এবং এর প্রভাবও হবে সুদূরপ্রসারী। স্বাধীনতা লাভের পর গত প্রায় ৩০০ বছরে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য করেছি, তার গতিপ্রকৃতি সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে এই পদক্ষেপ।” এদিকে ট্রাম্পের এই নতুন শুল্কনীতির ধাক্কা লেগেছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারেও।

বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম পড়ে যাওয়ায় বাজার থেকে ‘গায়েব’ হয়ে গেছে অন্তত ৫ লক্ষ কোটি ডলার।