আরটি,বিবিসি, রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিতে সম্মত হয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও কাতার। বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে মুসলিমপ্রধান এসব দেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও এই বোর্ডে যোগ দিতে রাজি হয়েছেন। তবে রাশিয়া জানিয়েছে, তারা এখনও বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। পুতিন বলেন, এই উদ্যোগ মূলত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক এবং রাশিয়া এক বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিতে প্রস্তুত। প্রথমে এই বোর্ডকে গাজায় ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ বন্ধ ও পুনর্গঠন তদারকির উদ্যোগ হিসেবে দেখা হলেও প্রস্তাবিত সনদে ফিলিস্তিনের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। এতে এই অঞ্চলে জাতিসংঘের ভূমিকা কমে যেতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। সৌদি আরব জানিয়েছে, মুসলিম-প্রধান দেশগুলোর এই জোট গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, পুনর্গঠন এবং ন্যায়সঙ্গত শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সমর্থন করছে। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও ভিয়েতনামসহ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে এই বোর্ডে যোগ দিয়েছে। তবে কানাডা ও যুক্তরাজ্য এখনও সিদ্ধান্ত জানায়নি। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ইসরাইলও এই জোটে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, স্লোভেনিয়া এই উদ্যোগে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

গাজা ইস্যুতে শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। যুদ্ধবিরতির পরও সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সাম্প্রতিক হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

শান্তি পর্ষদে ১০০ কোটি ডলার দিতে চান পুতিন: ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা পুনর্গঠনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত গাজা ‘বোর্ড অব পিস’ বা ‘শান্তি পর্ষদে’ ১০০ কোটি ডলার অনুদান প্রদান করতে চান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। এ ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। সেই প্রস্তাবে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বসূরী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংকে জমা রাখা রাশিয়ার যে অর্থ ফ্রিজ করা হয়েছিল— সেখান থেকে ১০০ কোটি ডলার যেন গাজা বোর্ড অব পিসে অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়।

গাজা বোর্ড অব পিস পরিষদের সদস্যপদের জন্য ইতোমধ্যে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। রাশিয়ান সিকিউরিটি কাউন্সিলের বৈঠকে ট্রাম্পের সেই আমন্ত্রণের বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, এখনও এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়নি মস্কো। বৈঠকে পুতিন বলেন, ‘গাজা বোর্ড অব পিসে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। রাশিয়া এখনও এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়নি। আমন্ত্রণ পর্যালোচনা এবং কৌশলগত মিত্রদের সঙ্গে আলোচনার পরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে মস্কো। সেজন্য আরও সময় প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘তবে ফিলিস্তিনের জনগণের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সব সময়েই বিশেষ। আমরা গাজা পুনর্গঠনে সহায়তা হিসেবে হিসেবে ১০০ কোটি ডলার দিতে চাই এবং আমাদের প্রস্তাব হলো— বিগত বাইডেন প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংকে গচ্ছিত থাকা যে রুশ অর্থ ফ্রিজ করেছিল— সেখান থেকে এই অর্থ নেওয়া হোক। আমরা আরও চাই, গাজা ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগদানের ব্যাপারে মস্কো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগেই যেন এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।’

গাজায় হামাস-ইসরাইল যুদ্ধ স্থায়ীভাবে থামাতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০টি পয়েন্ট সম্বলিত যে শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, সেখানে গাজায় একটি টেকনোক্র্যাট সরকার এবং গাজা ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের বিষয়ে উল্লেখ ছিল।

এ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, যুদ্ধ পরবর্তী গাজার প্রশাসন পরিচালনার জন্য একটি অরাজনৈতিক টেকনোক্র্যাট সরকার গঠিত হবে এবং এই সরকার পরিচালিত হবে গাজা ‘বোর্ড অব পিস’— এর নির্দেশনা অনুসারে। পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ গাজা বোর্ড অব পিসের সদস্যপদ পাবে এবং টেকনোক্র্যাট সরকারকে নির্দেশনা প্রদানের পাশাপাশি গাজার পুনর্গঠনের জন্য তহবিলের জোগাড় ও সেই তহবিলের ব্যয়ের ব্যাপারটিও দেখভাল করবে গাজা বোর্ড অব পিস। ট্রাম্প বিভিন্ন দেশকে গাজা বোর্ড অব পিসে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং ইতোমধ্যে পাকিস্তান, হাঙ্গেরি, মরক্কো, কাজাখস্তান, আর্জেন্টিনাসহ আরও কয়েকটি দেশ সেই আমন্ত্রণে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।