বিবিসি : মার্কিন অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তারা মিনেসোটায় অভিযান চালানোর সময় পাঁচ বছরের এক শিশুকে তার বাবার সঙ্গে আটক করেছে। স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের আইনজীবী এই তথ্য জানিয়েছে। এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও আইনজীবীরা অভিযোগ করছেন, শিশুদেরও অভিবাসনবিরোধী অভিযানের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। যদিও মার্কিন প্রশাসন বলছে, তারা কেবল ‘অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের’ লক্ষ্য করেই অভিযান চালাচ্ছে। সংবাদমাধ্যম বলছে, প্রি-স্কুলের শিক্ষার্থী ওই শিশুর নাম লিয়াম রামোস। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার তার বাবার সঙ্গে সে যখন বাড়ির সামনে ছিলেন, যখন আইসিই কর্মকর্তারা তার বাবার কাছে যান।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তর (ডিএইচএস) জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির নাম অ্যাড্রিয়ান আলেক্সান্ডার কোনেখো আরিয়াস। এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে ডিএইচএস দাবি করেছে, ‘আইসিই কোনও শিশুকে লক্ষ্যবস্তু করেনি’। তাদের ভাষ্য, তারা শিশুটির বাবার বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছিল, কারণ তিনি একজন ‘অবৈধ অভিবাসী’ এবং কর্মকর্তারা কাছে যেতেই তিনি ছেলেকে ‘ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন’। তবে কলাম্বিয়া হাইটস পাবলিক স্কুলসের সুপারিনটেনডেন্ট জেনা স্টেনভিক প্রশ্ন তুলেছেন, ‘পাঁচ বছরের একটি শিশুকে কেন আটক করা হবে? এই শিশুকে তো সহিংস অপরাধী বলা যায় না’। এদিকে এক্সে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে আইসিই দাবি করেছে, শিশুটিকে তারা আটক করেনি। সংস্থাটি বলেছে, ‘একজন অপরাধী অবৈধ অভিবাসী আইসিই কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পালানোর সময় তার সন্তানকে পরিত্যাগ করেন। আমাদের কর্মকর্তারা তীব্র শীতের মধ্যে শিশুটিকে নিরাপদে রেখেছেন।’ আইসিই জানায়, তারা শিশুটিকে পরিবারের কারও কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পরিবারের সদস্যরা শিশুটির হেফাজত নিতে রাজি হননি। বাবাও নাকি কর্মকর্তাদের বলেছেন, তিনি চান তার সন্তান তার সঙ্গেই থাকুক। অবশ্য বিবিসির কাছে ডিএইচএস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি।
এদিকে স্কুল জেলা কর্তৃপক্ষ যে ছবি সরবরাহ করেছে, তাতে দেখা যায়Í খরগোশ আকৃতির টুপি পরা এক শিশু বাইরে দাঁড়িয়ে আছে, আর একজন কর্মকর্তা তার ব্যাকপ্যাক ধরে আছেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এগুলো পথচারীদের তোলা ছবি। পরিবারের আইনজীবী মার্ক প্রোকশ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, লিয়াম ও তার বাবা বর্তমানে টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওর একটি আটক কেন্দ্রে রয়েছেন এবং আইনজীবীরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালে ইকুয়েডর থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চাইতে এসেছিলেন। এই পরিবার আইসিই থেকে পালানোর কোনো চেষ্টা করেনি। তারা নিয়ম মেনেই সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করছিল।
স্কুল কর্মকর্তারা জানান, একজন আইসিই কর্মকর্তা ভেতরে আর কেউ আছে কি না তা দেখতে শিশুটিকে বাড়ির দরজায় নক করতে বলেন। মূলত ওই সময় শিশুটি প্রি-স্কুল থেকে বাড়ি ফিরেছিল। স্টেনভিক বলেন, বাড়িতে থাকা আরেকজন প্রাপ্তবয়স্ক শিশুটিকে ভেতরে নিতে চাইলে কর্মকর্তারা তাতে রাজি হননি। স্কুল বোর্ড সদস্য মেরি গ্রানলান্ড জানান, ঘটনাস্থলে তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন এবং শিশুটিকে নিজের জিম্মায় নেয়ার প্রস্তাব দিলেও আইসিই তাকে আটক করে। এদিকে মিনেসোটা সফররত মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, আইসিইয়ের হাতে আর কোনও উপায় ছিল না, কারণ তার ‘বাবা পালিয়ে গিয়েছিলেন’। তিনি বলেন, ‘তারা কী করবে? পাঁচ বছরের একটি শিশুকে কি ঠান্ডায় জমে মরতে দেবে? নাকি অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার করবে না শুধু তার সন্তান আছে বলে?’