এনডিটিভি : হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের বিশাল অঙ্কের টোল আরোপ এবং এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রশাসনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর ক্রিস মারফি। ইরান বর্তমানে এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী নির্দিষ্ট কিছু জাহাজের ওপর ২০ লাখ ডলার (প্রায় ১৮.৮ কোটি টাকা) ফি নির্ধারণ করেছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজের্দি দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে জানান, কয়েক দশকের মধ্যে এটি এই অঞ্চলে ইরানের শক্তিশালী 'সার্বভৌম কর্তৃত্বের' প্রতিফলন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুদ্ধের বিশাল ব্যয়ভার মেটাতেই এই ট্রানজিট ফি আদায়ের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এই পরিস্থিতিকে 'উন্মাদনা' হিসেবে অভিহিত করে মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন অন্তত ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করছে, অথচ যুদ্ধের আগে এই পথটি স্বাভাবিকভাবেই উন্মুক্ত ছিল। মারফি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এই সংকটের সৃষ্টিকর্তা এবং এখন সেই সমস্যা সমাধানের নামে প্রতিদিন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করা এবং আমেরিকানদের মৃত্যুঝুঁকিতে ফেলা কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না। তিনি একে একটি 'স্ব-আরোপিত সংকট' বলে বর্ণনা করেন যা বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এদিকে, ইসরাইল ইরানের ওপর তাদের হামলা আরও জোরদার করার হুমকি দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নতুন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, অন্যথায় দেশটির জ্বালানি কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে ইরান কোনো ধরনের আলোচনায় বসার খবর প্রত্যাখ্যান করেছে এবং উল্টো ক্ষতিপূরণসহ ৫ দফা প্রস্তাব পেশ করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হওয়ায় এই অচলাবস্থা বর্তমানে বৈশ্বিক পুঁজিবাজার ও অর্থনীতিকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।