পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পাদিত প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্প্রসারণ নিয়ে এরই মধ্যে জোর আলোচনা মিডিয়ায়। তাতে বলা হয়েছে এই চুক্তিতে যুক্ত হতে পারে বাংলাদেশ ও তুরস্ক। এ বিষয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, চুক্তির যেকোনো সম্প্রসারণ, বিশেষ করে অন্য কোনো দেশের অন্তর্ভুক্তি ইসলামাবাদ ও রিয়াদের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেই হবে। সোমবার পার্লামেন্ট হাউসে জিও নিউজকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তুরস্ক কিংবা অন্য যেকোনো দেশ প্রতিরক্ষা জোটের অংশ হতে পারে, যদি পাকিস্তান ও সৌদি আরব উভয়েই এতে সম্মত হয়।

প্রতিরক্ষা উৎপাদন বিষয়ক মন্ত্রী রাজা হায়াত হাররাজ ১৫ই জানুয়ারি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেন যে, প্রায় এক বছরব্যাপী আলোচনার পর পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক একটি খসড়া প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রস্তুত করেছে। হাররাজ জানান, তিন আঞ্চলিক শক্তির সম্ভাব্য এই চুক্তি গত বছর ঘোষিত পাকিস্তান-সৌদি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা থেকে আলাদা। চুক্তি চূড়ান্ত করতে তিন দেশের মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এর আগে ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানায়, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট (এসএমডিএ)-এ যোগ দেয়ার বিষয়ে উন্নত পর্যায়ের আলোচনা চালাচ্ছে আঙ্কারা। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, সম্ভাব্য এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যসহ বৃহত্তর অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবে হাররাজ স্পষ্ট করেন যে, নতুন খসড়া চুক্তিটি পাকিস্তান-সৌদি এসএমডিএ থেকে পৃথক একটি উদ্যোগ। পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে কয়েক দশক ধরে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিদ্যমান। পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য করভেট যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করেছে তুরস্ক। পাকিস্তান বিমানবাহিনীর বহু এফ-১৬ যুদ্ধবিমান আধুনিকায়ন করেছে এবং ড্রোন প্রযুক্তিও সরবরাহ করেছে তারা। ওদিকে খাজা আসিফ বলেন, মুসলিম দেশগুলোর উচিত বৃহত্তর যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাওয়া। তার ভাষায়, এটি মুসলিম দেশগুলোকে একে একে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল বা অকার্যকর করে দেয়ার প্রচেষ্টা থেকে রক্ষা করবে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে গাজা শান্তি উদ্যোগে অংশ নেয়ার যে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনি মনে করেন, গাজার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।