ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস ইন্ডিয়া : টানা পতনে দিশেহারা ভারতীয় রুপি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতি এবং বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের চাপে ভারতীয় রুপির দরপতন অব্যাহত রয়েছে। ডলারের বিপরীতে রুপির মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে ৯৫ দশমিক ৬৯ স্পর্শ করেছে, যা ৯৬-এর মনস্তাত্ত্বিক সীমার খুব কাছাকাছি। দিনের শুরুতেই দুর্বল অবস্থানে ছিল রুপি। প্রাথমিক লেনদেনে এক ডলারের বিপরীতে রুপির দর নেমে যায় ৯৫ দশমিক ৬২-এ। দেশীয় মুদ্রার পতন ঠেকাতে ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (আরবিআই) বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে রুপি ৯৫ দশমিক ৫০-এর কাছাকাছি লেনদেন হয়। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রুপির মান ৫ শতাংশের বেশি কমেছে, যা এটিকে এশিয়ার সবচেয়ে অস্থির মুদ্রাগুলোর একটি করে তুলেছে।

ভারতীয় রুপির পতনের কারণ: বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধবিরতি এখন ‘ম্যাসিভ লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ভারতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। কারণ দেশটি তার ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি চাহিদা মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও রুপির ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ছিল প্রায় ৯৯ ডলার। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে ওই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও জোরালো হয়েছে।

মোদির বার্তায় বাজারের উদ্বেগ

এদিকে, গত সপ্তাহান্তে এক জনসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনগণকে জ্বালানি ব্যবহার কমানো, আমদানি হ্রাস এবং স্বর্ণ কেনা সীমিত করার আহ্বান জানান। বাজারে এটিকে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ও পরিশোধ ভারসাম্যের ওপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছে। সিআর ফরেক্স অ্যাডভাইজার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমিত পাবারি বলেন, বাজার মোদির বক্তব্যকে এমন ইঙ্গিত হিসেবে নিয়েছে যে, তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ অবস্থায় থাকলে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। গত সোমবার ভারতের দুই প্রধান সূচক নিম্নমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ করে। মঙ্গলবারও বিক্রির চাপ অব্যাহত রয়েছে। সেনসেক্স ৭৪৮ দশমিক ২২ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ২৬৭ দশমিক ৬-এ। নিফটি কমেছে ২০৮ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৮ শতাংশ।