আল-জাজিরা : ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নিজেদের জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়তে শুরু করেছে জাপান।
গতকাল সোমবার দেশটির সরকারি গেজেটে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। খবর আলজাজিরার।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি গত সপ্তাহে ঘোষণা করেছিলেন, নিরাপত্তা ও সরবরাহ সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে তারা একপক্ষীয়ভাবে স্টকপাইল থেকে ৮ কোটি ব্যারেল তেল ছেড়ে দেবে।
এ সময় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সিও ঘোষণা করেছে, তারা বাজারে শিথিলতা আনতে রেকর্ড ৪০০ কোটি ব্যারেল তেলের ছাড় সমন্বয় করবে।
তবে তেলের দাম গত সপ্তাহে বারবার প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারে ওঠা-নামা করেছে। কারণ বাজারের মনে হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি ব্যাহত অবস্থা চলতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রণালির মাধ্যমে যা প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বৈশ্বিক তেল সরবরাহ করে, তা কার্যত বন্ধ থাকায় দাম আরও বাড়তে পারে।
জাপান সোমবার জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্যান্য দেশকে প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানালেও তারা নৌবাহিনী মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা রাখছে না।
এদিকে বিশ্ববাজারে মূল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম রবিবার প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে এবং সোমবার সামান্য কমেছে। সোমবার সকাল ০৫:৪৫ জিএমটিতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়ায় ১০৪ দশমিক ৮৫ ডলার, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৪০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। জাপান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ। দেশটির মোট জ্বালানির প্রায় ৮০ শতাংশই বিদেশ থেকে আসে। এ ছাড়া জাপানের তেলের মজুত এতটুকু যে দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদা ২৫৪ দিন পূরণ করা সম্ভব।