এএফপি ; আফগানিস্তান সরকারের সঙ্গে উত্তেজনা থামছেই না পাকিস্তানের। বেশ কয়েকবার শান্তি চুক্তির আলোচনা করেও সমাধান হয়নি। তবে চলমান উত্তেজনার মাঝেই প্রতিবেশি দেশটির তালেবান সরকারকে দুটি পথ দেখিয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান (সিডিএফ) ও সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বলেছেন, পাকিস্তান শান্তিপ্রিয় দেশ হলেও দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা কিংবা রাষ্ট্রের দৃঢ়তা কোনো কিছুই হুমকির মুখে পড়তে দেওয়া হবে না।
গত সোমবার রাওয়ালপিন্ডির জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে (জিএইচকিউ) আয়োজিত গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানে আসিম মুনির এ কথা বলেন। পাকিস্তানের প্রথম চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস হিসেবে যোগদান উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় আসিম মুনির তালেবান সরকারের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, ‘আফগান তালেবানের সামনে দুটি পথ ফিতনা আল-খাওয়ারিজ (টিটিপি) না পাকিস্তান। তাদের একটি বেছে নিতেই হবে।’ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধান ফিল্ড মার্শাল ভারতকে সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে কোনো আগ্রাসনের চেষ্টা হলে ভারত কোনো বিভ্রান্তিতে থাকবেনাÍযে কোনো আগ্রাসনের জবাব পাকিস্তান আরও দ্রুত ও আরও তীব্রভাবে দেবে।‘ উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে হামলায় ছয় সেনা নিহত: উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলায় ছয় সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী গত সোমবার থেকে গতকাল মঙ্গলবার রাতে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কুররাম জেলার উপজাতীয় এলাকায় অবস্থিত ওই চৌকিতে আকস্মিক হামলা চালায়। এতে তীব্র গোলাগুলির লড়াই শুরু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ ও নিরাপত্তা সূত্র। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে। এই হামলাটি এমন সময়ে ঘটল যখন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংঘটিত একাধিক ছোটোখাটো সংঘর্ষে ডজনখানেক মানুষ নিহত হয়েছে। এসব সংঘর্ষ সীমান্তে উত্তেজনা আরও বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি করেছে। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, ছয়জন নিরাপত্তা সদস্য শহীদ হয়েছেন এবং চারজন আহত হয়েছেন। আর দুই জঙ্গিও লড়াইয়ে নিহত হয়েছে। টিটিপি প্রায় দুই দশক ধরে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলে হামলা বাড়িয়েছে তারা। ইসলামাবাদ অভিযোগ করে যে, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে ক্ষমতা নেওয়া তালেবান সরকার তাদের আশ্রয় দিচ্ছে। কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে এবং বলে যে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিষয়টি পাকিস্তানের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সমস্যা। মাঠের বাইরে থাকা বিভিন্ন বিষয়ও উত্তেজনাকে উসকে দিচ্ছে। পাকিস্তান দেশটিতে থাকা লাখ লাখ আফগান আশ্রয়প্রার্থীর ব্যাপক বহিষ্কার কার্যক্রম দ্রুততর করেছে। তবে ইসলামাবাদ গত সপ্তাহে জানিয়েছে যে তারা শিগ্গিরই জাতিসংঘের ত্রাণ সহায়তা আফগানিস্তানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া শুরু করবে।