আল জাজিরা : গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ ও মানবিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নবগঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি বোর্ড ওয়াশিংটনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হতে যাচ্ছে।

হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গাজায় একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা করা হবে। এই বোর্ডটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের একটি প্রধান কৌশলগত কাঠামো হিসেবে কাজ করছে। খবর আল জাজিরার। এই বৈঠকে ইসরাইল এবং ফিলিস্তিন উভয়পক্ষের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে মার্কিন কূটনীতির একটি নতুন মোড় হিসেবে। শান্তি বোর্ডের সদস্যরা গাজায় মানবিক সহায়তার প্রবেশপথগুলো উন্মুক্ত করা এবং যুদ্ধপরবর্তী গাজা পুনর্গঠনের একটি খসড়া পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করবেন।

রয়েছে, তেমনি কিছু সংশয়ও কাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, গাজার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং সেখানে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনা কেবল আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব নয়, বরং এর জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সদিচ্ছা প্রয়োজন।

ট্রাম্পের এই শান্তি বোর্ড কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নির্ভর করবে তাদের প্রস্তাবিত পরিকল্পনাগুলো মাঠ পর্যায়ে কতটা বাস্তবসম্মত হয় তার ওপর। বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বৈঠকের ফলাফলের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে, কারণ গাজার লাখ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটা এই ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগের ওপর ঝুলে আছে।

ইসরাইলি আগ্রাসনে গাজায় পরিবহন ব্যবস্থায় ক্ষতি ২৫০ কোটি ডলার: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় কয়েক বছর ধরে চালানো ইসরাইলি আগ্রাসনে উপত্যকাটির পরিবহন ব্যবস্থার ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন বা ২৫০ কোটি ডলার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাসান এল-নাবিহ বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট সংযোগসহ তার সাইকেলে ব্রিফকেস এবং ল্যাপটপ বেঁধে একটি জায়গার সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন। তার ছাত্রদের অনলাইনে যোগাযোগ করার উদ্দেশেই এমনটি করেন তিনি।

গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসনের আগে একজন অধ্যাপকের সাইকেল চালানো কোনো সাধারণ দৃশ্য ছিল না। কিন্তু এখন যুদ্ধের কারণে আরোপিত একটি করুণ বাস্তবতার মধ্যে এক কাতারে এসে পড়েছেন গাজার ধনী-গরীব, শিক্ষার্থী-শিক্ষক, মালিক-চাকরিজীবী সবাই। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত গণপরিবহনের কারণে এখন বিকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম মাধ্যম সাইকেল। এল-নাবিহ জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজা শহরের শুজাইয়া পাড়ায় পার্কিং করার সময় তার গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আত্মীয়দের সাথে দেখা করতে যাচ্ছিলাম আর তখন কাছাকাছি একটি ভবনে ইসরাইলি বিমান হামলা চালায়।’ এ সময় উভয় উইন্ডোস্ক্রিন ভেঙে পড়ে এবং ইঞ্জিনটি বিকল হয়ে যায় বলে জানান তিনি। এই অধ্যাপক আরও বলেন, ‘আমার গাড়িটি ব্যবহারের অযোগ্য এবং এখন জ্বালানি খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব, তাই আমাকে এভাবেই মানিয়ে নিতে হয়েছে।’