নাইটিন ফোরটি ফাইভ, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল : প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ডক্টর অ্যান্ড্রু ল্যাথাম সম্প্রতি ২০২৬ সালের এক সম্ভাব্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন নৌবাহিনীর রণকৌশল নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছেন। তার এই কাল্পনিক দৃশ্যপটে দেখা যায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র লড়াইয়ের মাঝে আকস্মিকভাবে একটি মার্কিন ফোর্ড-ক্লাস বা নিমিটজ-ক্লাস বিমানবাহী রণতরী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করলেও ল্যাথাম দাবি করেছেন, একটি রণতরী অকেজো হওয়া মানেই মার্কিন সামরিক অভিযানের সমাপ্তি নয়। বরং পেন্টাগন এই ধাক্কা সামলে নিয়ে কীভাবে তাদের মূল লক্ষ্য অভিমুখে অগ্রসর হবে, সেটিই এখন বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশ্লেষকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এই কাল্পনিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র তখন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল পরিকাঠামো ধ্বংস করার জন্য সুসংগঠিত আকাশ ও সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা করছে। সেখানে একাধিক ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, সাবমেরিন এবং দূরপাল্লার বোমারু বিমান মোতায়েন রয়েছে। ইরানের দিক থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্রটি যখন একটি বিশালাকার মার্কিন রণতরীর ফ্লাইট ডেককে (উড্ডয়ন চত্বর) অকেজো করে দেয়, তখন সাময়িকভাবে ওই জাহাজের বিমান উড্ডয়ন ক্ষমতা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ল্যাথামের মতে, ওয়াশিংটন এই পরিস্থিতিতে আবেগের বশবর্তী হয়ে সরাসরি সরকার পতনের মতো বড় কোনো যুদ্ধে জড়াবে না, বরং তাদের পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যেই অবিচল থাকবে।

রণতরীটি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে যেতে বাধ্য হলেও মার্কিন নৌবাহিনী দ্রুত তাদের অভিযানের শূন্যস্থান পূরণ করার কৌশল গ্রহণ করবে। একটি ক্যারিয়ার অকেজো হওয়ার সাথে সাথে সমুদ্রে মোতায়েন থাকা অন্য ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপটি তাদের বিমান উড্ডয়নের হার বা সর্টি জেনারেশন বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন স্থলভিত্তিক বিমানঘাঁটিগুলো থেকে হামলার তীব্রতা বাড়ানো হবে যাতে যুদ্ধের গতি মন্থর না হয়। এর ফলে ইরানের ওপর সামরিক চাপ কমার পরিবর্তে বরং কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে যা তেহরানের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে।

মার্কিন সাবমেরিনগুলো এই পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। পানির নিচ থেকে ক্রমাগত ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপের মাধ্যমে তারা ইরানি উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কমান্ড সেন্টারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে। মূলত যে সিস্টেমগুলো ব্যবহার করে মার্কিন জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলোকে ধ্বংস করাই হবে নৌবাহিনীর তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার। ল্যাথাম উল্লেখ করেছেন, এই পরিস্থিতিতে মার্কিন কমান্ডাররা তাদের বাকি জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর প্রতিরক্ষা ব্যূহ তৈরি করবেন এবং দূরত্ব বজায় রেখে অভিযান পরিচালনা করবেন।

রাজনৈতিকভাবে এই ঘটনা ওয়াশিংটনে এক বিশাল ঝড় তুলবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। মার্কিন কংগ্রেসের অনেক সদস্য হয়তো এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা উপড়ে ফেলার দাবি তুলবেন। কিন্তু কৌশলগত কারণে মার্কিন নীতিনির্ধারকরা হয়তো সেই পথে পা বাড়াবেন না। কারণ একটি সীমিত লক্ষ্যমাত্রার যুদ্ধকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপান্তর করা হলে তার ব্যয়ভার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে। তাই মার্কিন প্রশাসন তাদের মূল লক্ষ্য অর্থাৎ ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমিয়ে আনার মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখবে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই পরিস্থিতির বার্তা হবে অত্যন্ত স্পষ্ট। মিত্র দেশগুলো পর্যবেক্ষণ করবে যে একটি বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির পরও যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক কর্মসূচি চালিয়ে যেতে সক্ষম কিনা। যদি মার্কিন বাহিনী তাদের হামলার তীব্রতা বজায় রাখতে পারে, তবে সেটি হবে এক ধরণের কৌশলগত ধারাবাহিকতার প্রমাণ। শত্রুপক্ষ তখন বুঝতে বাধ্য হবে যে, একটি বিমানবাহী রণতরীকে আঘাত করা সম্ভব হলেও তা আমেরিকার সামগ্রিক সামরিক শক্তিকে পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। এই ধারাবাহিকতাই হবে মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের আসল পরিচয়।

এই কাল্পনিক হামলার ঘটনাটি ওয়াশিংটনের ভেতরে বিশালাকার বিমানবাহী রণতরীর উপযোগিতা নিয়ে পুরনো বিতর্ককে আবার উসকে দেবে। সমালোচকরা হয়তো যুক্তি দেবেন, আধুনিক যুগে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে এই দানবীয় জাহাজগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তবে এর বিপরীতে সমর্থকরা বলবেন, ক্যারিয়ারগুলো এখনো সমুদ্রে মার্কিন শক্তির প্রধান স্তম্ভ। এই বিতর্কের ফলে ভবিষ্যতে হয়তো মার্কিন নৌবাহিনী তাদের অপারেটিং মডেলে বড় ধরণের পরিবর্তন আনবে এবং মনুষ্যবিহীন ড্রোন ও ডিস্ট্রিবিউটেড আর্কিটেকচারের ওপর আরও বেশি জোর দেবে। মেয়রের এই উদ্ভাবনী উপস্থাপনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেশ উৎসাহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। যদিও নির্বাচনের আগে ট্রাম্প মামদানিকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন, তবে বর্তমানে তাদের মধ্যে একটি ইতিবাচক কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আবাসন প্রকল্প ছাড়াও এই বৈঠকে মানবাধিকার ও অভিবাসন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইস্যু উঠে আসে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর আটকের বিষয়ে মেয়রের অনুরোধের প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিবাচক সাড়া দেন এবং ওই শিক্ষার্থীকে দ্রুত মুক্তির আশ্বাস দেন। দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টার এই বৈঠকে দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও নিউ ইয়র্কবাসীর স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। আবাসন খাতের এই বিশাল ফেডারেল বিনিয়োগ শেষ পর্যন্ত অনুমোদিত হবে কিনা, এখন সেটিই দেখার বিষয়।