বিবিসি: গত বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মাদুরো সরকারের ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়ানো হয়েছে। প্রথমে, ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোকে ধরিয়ে দেওয়ার তথ্য যে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল, তা দ্বিগুণ করে। এরপর সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আমেরিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক বহন করছে এমন অভিযোগে কিছু জাহাজকে লক্ষ্য করে অভিযান শুরু করে মার্কিন সেনাবাহিনী। এর পর থেকে ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরে এমন জাহাজে ৩০টির বেশি হামলা চালানো হয়েছে, যাতে ১১০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, তারা যাদের মাদক পাচারকারী বলছে, তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘অ-আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংঘাতে’ জড়িত, কারণ তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অনিয়মিত যুদ্ধ’ চালাচ্ছে। তবে বহু আইন বিশেষজ্ঞ বলছেন, এসব হামলা ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’র বিরুদ্ধে নয়। বিশেষ করে ২ সেপ্টেম্বরের প্রথম হামলাটি বেশি প্রশ্নের মুখে পড়েছে, কারণ সেখানে একবার নয়, পরপর দুবার হামলা চালানো হয়। প্রথম হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরাও দ্বিতীয় হামলায় নিহত হন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক এক প্রধান কৌঁসুলি বিবিসিকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান মূলত শান্তিকালে বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত হামলার পর্যায়ে পড়ে।
এর জবাবে হোয়াইট হাউস বলেছে, তারা সশস্ত্র সংঘাতের আইন মেনেই কাজ করেছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সেই কার্টেলগুলো থেকে রক্ষা করা যায়, যেগুলো ‘আমাদের উপকূলে বিষ নিয়ে আসতে চাইছেৃ আমেরিকানদের জীবন ধ্বংস করছে।’ অক্টোবরে ট্রাম্প বলেন, তিনি ভেনেজুয়েলার ভেতরে গোপন অভিযান চালাতে সিআইএ-কে অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি যাদের ‘নার্কো-সন্ত্রাসী’ বলে অভিহিত করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে স্থলভাগে হামলার হুমকিও দেন। তিনি জানান, এর প্রথমটি ২৪ ডিসেম্বর চালানো হয়েছে, যদিও বিস্তারিত দেননি। শুধু বলেন, এটি এমন একটি ‘ডক এলাকায়’ চালানো হয়েছে যেখানে মাদক বহনের অভিযোগ থাকা নৌকাগুলো বোঝাই করা হচ্ছিল।
মাদুরোকে আটক করার আগে ট্রাম্প বারবার বলেছিলেন, মাদুরো ‘যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু নন’ এবং তার জন্য ‘চলে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে’। তিনি মাদুরোর ওপর আর্থিক চাপও বাড়ানÍভেনেজুয়েলায় ঢোকা ও বের হওয়া সব নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলবাহী জাহাজের ওপর ‘পূর্ণ নৌ অবরোধ’ ঘোষণা করে। তেলই মাদুরো সরকারের বৈদেশিক আয়ের প্রধান উৎস। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে একটি বিশাল সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে, যার ঘোষিত লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল ও কোকেনের প্রবাহ ঠেকানো। মাদক পাচারের অভিযোগে জাহাজে হামলা চালানোর পাশাপাশি এই বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যকর করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।