গালফ নিউজ : ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সৌদি আরবের আবাসন খাতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। দেশটির নতুন আইন অনুযায়ী প্রথমবারের মতো বিদেশি নাগরিক এবং প্রবাসীরা নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সরাসরি সম্পত্তি কেনার সুযোগ পাবেন। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে অনুমোদিত এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো ভিশন ২০৩০-এর আওতায় বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং আবাসন বাজারকে আরও শক্তিশালী করা।
কারা প্রথম সুযোগ পাবেন : বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুযোগের প্রথম সুবিধাভোগী হবেন সৌদি আরবে কর্মরত উচ্চপদস্থ বিদেশি পেশাজীবীরা। বিশেষ করে রিয়াদ ও জেদ্দার মতো শহরগুলোতে যারা বর্তমানে উচ্চ ভাড়ার চাপে রয়েছেন, তারা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে নিজের বাড়ি কেনাকে প্রাধান্য দেবেন। এছাড়া জিসিসি বা উপসাগরীয় অঞ্চলের বিনিয়োগকারী এবং ধর্মীয় গুরুত্বের কারণে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মুসলিম ক্রেতারাও এই তালিকায় উপরের দিকে থাকবেন।
বাজারের গতিপ্রকৃতি ও চাহিদা : আইন কার্যকর হওয়ার সাথে সাথেই বাজারে বড় কোনো ঘাপলা বা হঠকারিতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং এটি হবে একটি নিয়ন্ত্রিত ও ধীরগতির প্রক্রিয়া। প্রথম বছরে মূলত আবাসিক এলাকার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি থাকবে। রিয়াদ শহরটি বর্তমানে কর্মসংস্থান এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির কেন্দ্রে থাকায় সেখানে চাহিদাও থাকবে সবচেয়ে বেশি। এর পরেই থাকবে উপকূলীয় শহর জেদ্দা, যা মূলত জীবনযাত্রার মান এবং বিনোদনের জন্য বিদেশি ক্রেতাদের আকর্ষণ করবে।
নির্দিষ্ট এলাকা বা ডেজিগনেটেড জোন : মনে রাখা প্রয়োজন যে পুরো সৌদি আরব জুড়ে এখনই সম্পত্তি কেনা যাবে না। রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি কর্তৃক নির্ধারিত কিছু বিশেষ এলাকায় এই মালিকানা সীমাবদ্ধ থাকবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মক্কা ও মদিনার মতো পবিত্র শহরগুলোতে মালিকানার ক্ষেত্রে এখনও কড়াকড়ি বজায় থাকবে।
ঝুঁকি ও সতর্কতা : সৌদি আরবে সম্পত্তি কেনার আগে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। যেহেতু এটি একটি নতুন প্রক্রিয়া, তাই আইনি অনুমোদন, ফি, মালিকানার ধরন এবং পুনরায় বিক্রির নিয়মাবলী সম্পর্কে পূর্ণ স্বচ্ছতা আসতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এছাড়া দ্রুত লাভের আশায় বিনিয়োগ না করে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় এগোতে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ নতুন বাজারে শুরুতেই পুনরায় বিক্রির প্রক্রিয়াটি কিছুটা জটিল হতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে তুলনা : সংযুক্ত আরব আমিরাতের তুলনায় সৌদি আরবের আবাসন বাজারটি অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত। দুবাই বা আবুধাবির বাজার যেখানে অনেক বেশি পরিপক্ক, সৌদি আরব সেখানে কেবল শুরু করছে। তাই যারা দুবাই থেকে বিনিয়োগ করতে চান, তাদের উচিত হবে যথাযথ অনুসন্ধান বা ডিউ ডিলিজেন্স সম্পন্ন করা।