এএফপি : হরমুজ প্রণালিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হলো ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সংশোধিত সান জুর রণকৌশল। একটি সংযোগ করিডর হরমুজ প্রণালি এবং একটি মুদ্রা ইউয়ান—উভয়ই এখন সাম্রাজ্যবাদী বিনাশের মারণাস্ত্র। পারমাণবিক বোমার আর প্রয়োজনই–বা কী?

এখানে ঝুঁকির বিষয় হচ্ছে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ, যা ২০৩০ সালের অনেক পর, শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় এবং তারও পর পর্যন্ত প্রভাব ফেলবে। আমরা এখন বাস্তব সময়েই যা দেখছি, তা হলো পারস্যবাসীর একধরনের দাবা খেলা—যেখানে তারা খুব দক্ষ। তবে এর মধ্যে চীনের ‘ওয়েইচি’ (ইংরেজিতে ‘গো’) খেলার উপাদানও রয়েছে।

‘গো’ একটি প্রাণবন্ত খেলা। এই খেলায় ব্যবহৃত ছোট পাথরগুলো যখন একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়, তখন তারা বোর্ডজুড়ে একটি সুনির্দিষ্ট আকার তৈরি করে এবং দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। আমাদের ক্ষেত্রে এটি হলো ভূরাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক দাবার বোর্ড। এর পুরোটা জুড়েই রয়েছে সঠিক অবস্থান গ্রহণ, ধৈর্য, তিল তিল করে সুবিধা সঞ্চয় করা এবং সুনিপুণ কৌশল পরিচালনা।

এটাই সেই ‘গোপন রহস্য’, কেন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এখন চীনকে চূড়ান্ত চালটি দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। বেইজিং বছরের পর বছর ধরে অসীম ধৈর্যের সঙ্গে এই দাবার বোর্ড সাজিয়েছে। একগুচ্ছ বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান তৈরি করা, ব্রিকস এবং এসসিওতে (সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন) মূল ভূমিকা পালন করা, নতুন সিল্ক রোড নির্মাণ করা, বিকল্প লেনদেনব্যবস্থায় বিনিয়োগ করা এবং তাদের কূটনীতিকে শক্তিশালী করা—এর সবই ছিল সেই বোর্ডের অংশ।

‘গো’ খেলাটি অত্যন্ত যুক্তি মেনে খেলতে হয়। আপনি যদি বোর্ডটি ঠিকভাবে সাজাতে পারেন, তবে আপনার ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ নেই। খেলাটি তখন নিজেই নিজের গতিতে এগোতে থাকে। আমরা এখন ঠিক সেই পর্যায়েই আছি। আর এ কারণেই সেই সাম্রাজ্যবাদী হুমকিদাতারা, তার চাটুকার, সহায়তাকারী এবং অনুগত রাষ্ট্রগুলো আজ স্তম্ভিত ও পাথর হয়ে গেছে। তারা সবাই আজ নিজেদেরই ঔদ্ধত্যের চোরাবালিতে বন্দী।