আনাদোলু : লেবাননের পর সিরিয়াতেও হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইল। এ সময় স্থানীয় বাহিনীর সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১২ জন নিহত এবং ৬ জন ইসররাইলি সেনাসহ ১৮ জন আহত হয়েছেন। যার মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সিরিয়ার সরকারি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, রাজধানী দামেস্কের গ্রামীণ অঞ্চল বেইত জিন্ন ও মাযরাত বেইত জিন্নের যাত্রাপথে শুক্রবার ভোরে চালানো ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১১ জন।
রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল আল-ইখবারিয়া জানিয়েছে, হামলার পরও ইসরাইলি ড্রোন ওই এলাকার আকাশে টহল দিচ্ছিল, বিশেষ করে দুই শহরকে সংযুক্ত করা সড়কের উপর দিয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকে আছে এবং উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। হামলার পর বেইত জিন্ন থেকে ডজন ডজন পরিবার নিরাপদ এলাকায় পালিয়ে গেছে। এর আগে চ্যানেলটি জানিয়েছিল, ইসরাইলের একটি টহলদল রাজধানী শহরে ঢুকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং পরে পিছু হটে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ অভিযানের সময় তাদের ছয় সেনা সদস্য আহত হয়েছে। যার মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। ইসরাইলি বাহিনীর দাবি, তারা ‘আল-জামা ইসলামিয়ার’ সদস্যদের আটক করেছে। যারা নাকি দক্ষিণ সিরিয়ার বেইত জিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় ছিল এবং ইসরাইলি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করছিল। সিরীয়া কর্তৃপক্ষ অবশ্য এখন পর্যন্ত ইসরাইলি হামলা বা এই দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইল চলতি নভেম্বরে দক্ষিণ সিরিয়ায় মোট ৪৭টি অভিযান পরিচালনা করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী সিরিয়ায় ১,০০০–এর বেশি বিমান হামলা এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে ৪০০–র বেশি সীমান্ত অতিক্রমকারী অভিযান চালিয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ইসরাইল গোলান মালভূমিতে নিজের দখল আরও বিস্তৃত করে এবং নিরস্ত্রীকৃত বাফার জোন দখল করে নেয় যা ১৯৭৪ সালের সিরিয়া-ইসরাইল বিচ্ছিন্নতা চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।