অ্যাক্সিওস, এএফপি : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার বলেছেন, ইরান মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি না হয়ে বরং আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইবে বলে তিনি আশা করছেন। যদিও তেহরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্রভান্ডার নিয়ে কখনোই কোনো আলোচনা হবে না। ওভাল অফিসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এটুকু বলতে পারি, তারা (ইরান) একটি চুক্তি করতে চায়।’ ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি কোনো সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি দিয়েছি।’ তবে সেই সময়সীমা ঠিক কবে, তা তিনি প্রকাশ করতে রাজি হননি।

ইরানের জলসীমামুখী মার্কিন রণতরিবহরের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের একটি বিশাল ‘নৌবহর’ এখন ইরানের দিকে যাচ্ছে। আশা করি, আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব। যদি চুক্তি হয়, তবে ভালো, আর না হলে কী হয়, তা দেখা যাবে।’ পশ্চিমাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ইরানে সর্বশেষ বিক্ষোভে ছয় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে ইরান সরকারের হিসাবমতে, বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তেহরান কিছু বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটিকে ট্রাম্প তেহরানের আলোচনার প্রস্তুতির প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ওই অঞ্চলের মার্কিন মিত্ররা উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, ইরানের ওপর যেকোনো মার্কিন হামলা অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা উপসাগরীয় অঞ্চলের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা আশা করি, যা–ই ঘটুক না কেন, তা যেন স্থিতিশীলতা বয়ে আনে। ইরানিরা সঠিক কাজটি করলে এই ফলাফল অর্জন সম্ভব এবং আমরা সেটিই আশা করছি।’ ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করেছেন। আলোচনার বিস্তারিত জানা না গেলেও মস্কো ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে।

আলোচনার শর্ত ও বাধা : ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে ‘কখনোই’ আলোচনার টেবিলে বসা হবে না। তেহরান সমমর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত থাকলেও মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ জানিয়েছে, ওয়াশিংটন এমন একটি চুক্তি চাইছে, যেখানে ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সীমাবদ্ধতা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং নিজেরা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিষিদ্ধ করার শর্ত থাকবে। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুকে যুক্ত করা প্রায় অসম্ভব। কারণ, এটি ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তি।

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের কাছে আজ তাজা গুলীর মহড়া দেওয়ার ঘোষণা ইরানের: এদিকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের কাছে তাজা গুলির মহড়া দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। আজ রোববার থেকে দুইদিনের এ মহড়া শুরু করবে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও অত্যাধুনিক রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কনকে মোতায়েনের পর মহড়া দিতে যাচ্ছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনকে উস্কানি ও উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে দেখছে তেহরান। ইরান এ মহড়া দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড কড়া সতর্কতা দিয়েছে। তারা বলেছে, ইরান যদি ঝুঁকিপূর্ণ কোনো মহড়া দেয় তাহলে তারা এটি সহ্য করবে না। ঝুঁকিপূর্ণ মহড়া হিসেবে তারা উল্লেখ করেছে, তাদের যুদ্ধজাহাজের খুব কাছ দিয়ে বিমান বা ড্রোন উড়ানো এবং যুদ্ধজাহাজের কাছে ইরানি নৌবাহিনীর স্পিডবোড আসা। গত এক মাস ধরেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সহায়তার অজুহাতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ ও সেনা জড়ো করেছে মার্কিনিরা। এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিচ্ছেন, ইরানকে তাদের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। তিনি বলেছেন, ইরান যদি সময় মতো চুক্তি না করে তাহলে দেশটিতে হামলা চালানো হবে।