বিবিসি : জেফরি এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের বিরুদ্ধে ওঠা নতুন সব অভিযোগ নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন রাজা চার্লস। বাকিংহাম প্যালেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অ্যান্ড্রুর বিষয়ে ওঠা নতুন অভিযোগগুলো নিয়ে রাজা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ এবং পুলিশ যদি তদন্তের প্রয়োজনে এগিয়ে আসে, তবে রাজপ্রাসাদ তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

টেমস ভ্যালি পুলিশ বর্তমানে রাজতন্ত্রবিরোধী গোষ্ঠী ‘রিপাবলিকের’ করা একটি অভিযোগ খতিয়ে দেখছে, যেখানে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে সরকারি পদের অপব্যবহার এবং দাপ্তরিক গোপনীয়তা লঙ্ঘনের সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত তিন মিলিয়ন নথিপত্রে দেখা গেছে, ২০১০ সালে বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় অ্যান্ড্রু সিঙ্গাপুর, হংকং এবং ভিয়েতনাম সফরের অত্যন্ত গোপনীয় এবং স্পর্শকাতর বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য জেফরি এপস্টেইনকে পাঠিয়েছিলেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের তথ্য অত্যন্ত গোপনীয় রাখার কথা থাকলেও, অ্যান্ড্রু তার বিশেষ উপদেষ্টার কাছ থেকে ইমেইল পাওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় তা এপস্টেইনকে ফরোয়ার্ড করেছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্যালেসের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, রাজা এবং রানীর সমবেদনা সবসময় সব ধরনের নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে রয়েছে।

এই বিতর্কের রেশ ধরে রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রিন্স এবং প্রিন্সেস অব ওয়েলসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, উইলিয়াম এবং ক্যাথরিন এই নতুন তথ্যগুলোতে গভীরভাবে বিচলিত। এদিকে ল্যাঙ্কাশায়ারে এক অনুষ্ঠানে রাজা চার্লসকে সরাসরি অ্যান্ড্রু সম্পর্কে প্রশ্ন করে এক বিক্ষোভকারী হট্টগোল সৃষ্টির চেষ্টা করেন, যদিও উপস্থিত জনতা তাকে থামিয়ে দেয়। গত অক্টোবর ২০২৫ সালে অ্যান্ড্রুর প্রিন্স এবং ডিউক পদবি কেড়ে নেওয়ার পর থেকে তার ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।