বিবিসি বাংলা
ফিলিস্তিন ও গাজা: চলমান তীব্র মানবিক সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গাজার মানুষ বর্তমানে চরম খাদ্যসংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ফলে তাদের ইফতারের তালিকায় ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু খাবারের বদলে প্রধানত শুকনো রুটি, সেদ্ধ ডাল, সামান্য সবজি, স্যুপ এবং ত্রাণ থেকে প্রাপ্ত খেজুর ও টিনজাত খাবার রয়েছে। অনেকের জন্য ইফতারের সময় পর্যাপ্ত খাবার জোগাড় করাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে, যা তীব্র ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের ইঙ্গিত দেয়।
এবারের রমজানে গাজার অধিকাংশ মানুষ, বিশেষ করে বাস্তুচ্যুতরা, ত্রাণবাহী শুকনো রুটি এবং সেদ্ধ ডাল বা স্যুপ দিয়ে ইফতার করছেন। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বা অন্যান্য সংস্থা থেকে দেওয়া খেজুর, বাদাম এবং টিনজাত খাবার (ফল, মাছ) ইফতারের প্রধান উপাদান হয়ে উঠেছে।তবে পরিস্থিতি যখন স্বাভাবিক থাকলে ছিল ফাতেহ, মোলখিয়া, সুমাঘিয়াহ-এর মতো ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় খাবার ফিলিস্তিনিদের ইফতারে শোভা পেত। কিন্তু এখন সেসব খাবার প্রায় দুর্লভ।
মিসর: রহস্যঘেরা পিরামিড আর নীলনদের দেশ মিসরে নয় কোটি মানুষ মুসলিম। দেশের মোট জনসংখ্যার হিসেবে মুসলিমরা প্রায় ৭৯ শতাংশ, ফলে দেশটিতে ইফতার মানেই একধরনের আনন্দ-উৎসব। ইফতারের সময় মৃদু আলো দেয় এমন রঙ্গিন লণ্ঠন জ্বালিয়ে থাকেন মিসরীয়রা। শুধু তাদের বাড়িতে নয়, পুরো রমজান জুড়ে সেখানকার পথেঘাটেও বিভিন্ন ধরনের রঙ্গিন আলো জ্বলতে দেখা যায়।
রমজানে তাদের ইফতার টেবিলে থাকে নানা ধরনের খাবারের সমারোহ। তার মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো 'আতায়েফ' ও 'কুনাফা'। আতায়েফ হলো এক ধরনের প্যানকেক ও কুনাফা এক ধরনের সিরাপ। এই দু'টো খাবার মিশরীয় মুসলমানদের ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলা যেতে পারে। তবে দেশটির অনেক পরিবার ইফতারে বাদামি রুটি এবং মটরশুঁটি, টমেটো, বাদাম ও অলিভ অয়েল দিয়ে তৈরি ‘ফুল মেদেমাস’ নামক এক ধরনের খাবার খেতে পছন্দ করেন। মিডল ইস্ট আই'র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিশরীয়রা তাদের ইফতারে এপ্রিকটস ফল দিয়ে তৈরি কামার-আল-দিনান্দ আরায়সি এবং দুধ, ভ্যানিলা ও নারিকেল দিয়ে তৈরি সোবিয়া নামক পানীয় পান করেন। এছাড়া, তাদের খাবার টেবিলে বিভিন্ন ধরনের ফল, ফলের রস, সবজি ইত্যাদিও থাকে।
বাংলাদেশ : বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৮৬ শতাংশেরও বেশি, অর্থাৎ ১৫ কোটির বেশি মানুষ মুসলিম। উপমহাদেশের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের মানুষকেও ইফতারে অনেক ভাজা-পোড়া খাবার খেতে দেখা যায়। এর মধ্যে থাকে- পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, বিভিন্ন ধরনের সবজির পাকোড়া ইত্যাদি। এছাড়া তাদের ইফতার আয়োজনে আরও থাকে মুড়ি, ছোলা বুট, জিলাপি, হালিমসহ নানা রকমের শরবত ও ফল।
এসব হালকা খাবারের পাশাপাশি অনেক পরিবার ইফতারের সময় হাতে তৈরি নানা রকমের পিঠা-পুলি, তেহারি, বিরিয়ানি, খিচুড়ি, তন্দুরি চিকেনের মতো ভারী খাবারও খায়।
তবে ফলের মধ্যে খেজুর প্রায় অপরিহার্যই বলা যেতে পারে। এটি ছাড়া বাংলাদেশি মুসলিমদের ইফতার টেবিল একরকম অসম্পূর্ণই বলা যায়। মসজিদগুলোতে যে ইফতার আয়োজন করা হয়, সেখানেও খেজুরের উপস্থিতি থাকে। মূলত, ইসলামের নবী ইফতারের শুরুতে খেজুর খেতেন বলে বিশ্বব্যাপী এটি এত জনপ্রিয়।