সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) সভাপতি আসাদউদ্দিনদ্দিন ওয়াইসি এবং বদরুদ্দিন আজমল এর মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত মিলছে আসামের রাজনীতিতে হায়দরাবাদে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এ জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই দলের মধ্যে সরাসরি জোট না হলেও পারস্পরিক সমর্থনের একটি সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্র জানায়, আজমলের ছেলে এবং প্রাক্তন বিধায়ক আব্দুর রহমান আজমল বৃহস্পতিবার হায়দরাবাদে ওয়াইসির বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকের পরই দুই দলের মধ্যে যোগাযোগ আরও গভীর হয়েছে। একই সঙ্গে ফোনে আজমলের সঙ্গে সরাসরি কথাও বলেন ওয়াইসি।

জানা গেছে, আগামী ২ ও ৩ এপ্রিল আসামে একাধিক জনসভায় অংশ নেবেন ওয়াইসি। বিশেষ করে হোজাই জেলার বিন্নাকান্দি আসনে আজমলের সমর্থনে প্রচারে নামবেন তিনি। এ ঘোষণার পরই অসমের রাজনৈতিক অঙ্ক নতুন করে সাজাতে শুরু করেছে বিভিন্ন দল। উল্লেখ্য, এর আগে দুই দলের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা হলেও তা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। কিন্তু নির্বাচনের মুখে এসে আবারও সমর্থনের এই বার্তা অনেক তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

গত লোকসভা নির্বাচনে আজমলের দল বড় ধাক্কা খেয়েছিল। ধুবড়ি কেন্দ্র থেকে আজমল নিজেই বড় ব্যবধানে পরাজিত হন। এর ফলে দলের ভিতরে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পাশাপাশি দলের একটি বড় অংশের ভোট অন্যদিকে সরে যায় বলেও জানা যায়। বিশেষ করে বাংলাভাষী মুসলিম ভোটের একটি বড় অংশ কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত। এর ফলে আজমলের দলের প্রভাব অনেকটাই কমে যায়। দলের একাধিক বিধায়কও দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিয়েছেন।

বর্তমানে আসাম বিধানসভায় আজমলের দলের সদস্য সংখ্যা ১৫। যদিও ২০১১ সালে দলটি ১৮টি আসন জিতে তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করেছিল। সেই তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ওয়াইসির সমর্থন আজমলের জন্য কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই সমর্থন মূলত সংখ্যালঘু ভোটকে একজায়গায় টানার চেষ্টা। তবে অন্য অংশের মতে, এতে ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এরই মধ্যে পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে নিজের প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন ওয়াইসি। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গেও তিনি একটি আঞ্চলিক দলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে স্পষ্ট, পূর্বাঞ্চলে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে চাইছেন তিনি। সব মিলিয়ে, আসামের নির্বাচনের আগে এই নতুন সমীকরণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এখন দেখার, এই সমর্থন ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।