এপি, দ্য গার্ডিয়ান : চাঁদে আবারও মানুষ পাঠানোর মিশনে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে নাসা। শুক্রবার সংস্থাটির নবনিযুক্ত প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানান, দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী পর চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণের আগে অন্তত একটি নতুন পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। ফলে ২০২৮ সালের আগে মানুষবাহী কোনও যান চাঁদে নামছে না।
প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং ‘খুব দ্রুত অনেক কিছু অর্জনের’ চেষ্টার কারণে যে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে, তা সামাল দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইজ্যাকম্যানের মতে, বড় কোনও ঝুঁকি না নিয়ে ধাপে ধাপে এগোতে চায় নাসা। নতুন এই পরিকল্পনার প্রভাবে পিছিয়ে গেছে ‘আর্তেমিস-২’ অভিযানও। চলতি বছরের ৬ মার্চ চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসার কথা ছিল এই মিশনের। কিন্তু তা পিছিয়ে আগামী ১ এপ্রিল পুনর্র্নিধারণ করা হয়েছে। সম্প্রতি ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে রকেটের ওপরের অংশে হিলিয়াম প্রবাহে বাধা ধরা পড়ায় সেটিকে হ্যাঙ্গারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে হাইড্রোজেন লিকের কারণেও অভিযানটি বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। আর্তেমিস-২ মিশনে চারজন নভোচারী ১০ দিনের সফরে চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসবেন। এটি ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩-এর গড়া দূরত্বের রেকর্ড ভেঙে মানুষকে মহাকাশের আরও গভীরে নিয়ে যাবে। আগে পরিকল্পনা ছিল আর্তেমিস-৩ মিশনের মাধ্যমে ১৯৭২ সালের পর প্রথম কোনও মানুষ চাঁদে নামবে। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই মিশনটি পরিচালনা করা হবে। এটি চাঁদে না গিয়ে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (লো-আর্থ অরবিট) থেকে জটিল সব প্রযুক্তি ও মহাকাশযানের সক্ষমতা পরীক্ষা করবে।
আইজ্যাকম্যান সিবিএস নিউজকে বলেন, “আমাদের মৌলিক বিষয়গুলোতে ফিরে যেতে হবে। ১৯৬৯ সালে নীল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিনরা চাঁদে নামার আগে তিনটি আলাদা মিশন সম্পন্ন করা হয়েছিল। আমরাও সেভাবে ধাপে ধাপে ঝুঁকি কমিয়ে এগোতে চাই।” নাসার নতুন সূচি অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৮ সালে ‘আর্তেমিস-৪’ মিশনের মাধ্যমে চাঁদে মানুষ অবতরণ করানো হবে। লক্ষ্য হলো চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে নভোচারীদের নামানো। এরপর ২০২৮ সালেই ‘আর্তেমিস-৫’ পরিচালনা করার এবং পরবর্তী প্রতি বছর একটি করে চন্দ্রাভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে নাসার।