এএফপি, রয়টার্স, সিএনএন : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী। এর আগে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা সতর্ক করেছিলেন, ইরানে যেকোনো মার্কিন হামলা আঞ্চলিক সংঘাত উসকে দেবে।
গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রশাসনের কঠোর দমন-পীড়নের জেরে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই অংশ হিসেবে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী একটি রণতরি পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গতকাল এক ভাষণে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে একটি ‘অভ্যুত্থান’চেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘যক্তরাষ্ট্রের জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তবে এবার তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।’ তিনি জনগণকে ট্রাম্পের হুমকিতে ভীত না হওয়ার আহ্বান জানান।
খামেনি বলেন, তারা (বিক্ষোভকারী) পুলিশ, সরকারি কেন্দ্র, আইআরজিসি কেন্দ্র, ব্যাংক ও মসজিদে হামলা করেছে। তারা পবিত্র কোরআন পুড়িয়েছে। এটি একটি অভ্যুত্থানের মতো, যা শেষ পর্যন্ত দমন করা হয়েছে।
খামেনির এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি তো এমন কথা বলবেনই। দেখা যাক কী হয়। আশা করছি, আমাদের একটি চুক্তি হবে। আর যদি না হয়, তবে তিনি (খামেনি) ঠিক না ভুল, তা সময়ই বলে দেবে।’
বিক্ষোভকে ইরান সরকার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি হিসেবে দেখছে। সরকার স্বীকার করেছে, বিক্ষোভে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তিদের বড় অংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। অন্যদিকে মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, নিহত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা ৬ হাজার ৮৪২–এর বেশি, যাঁদের অধিকাংশই বিক্ষোভকারী।
এত উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার ক্ষীণ আলো দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ট্রাম্প যদি ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নিতে পারেন, তবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে একটি ‘সুষ্ঠু ও সমতাপূর্ণ’ চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, অঞ্চলের কিছু দেশ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারি জানিও বলেছেন, সংবাদমাধ্যমের প্রচারণার আড়ালে আলোচনার পরিকাঠামো তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। ট্রাম্পও আলোচনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ‘বিশ্বাসের সংকট’ কাটিয়ে অর্থবহ আলোচনা এখনও সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই অঞ্চলে কোনও সামরিক সংঘাত হলে তা দ্রুত ব্যাপক রূপ নিতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম গত রোববার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের শঙ্কা নিয়ে তার চিন্তা নেই। বরং তিনি বেশি চিন্তিত ওয়াশিংটনকে সংঘাতে জড়ানোর জন্য বাইরের চেষ্টার কারণে সৃষ্ট ভুল তথ্য নিয়ে।
তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, আমরা একটি আলোচনা অংশীদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থা হারিয়েছি। এই অবিশ্বাস কাটিয়ে উঠতেই হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে আরাঘচি উল্লেখ করেন, বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে সহায়তা করছে, যা আস্থা পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি করতে পারে।
ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী না হতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ট্রাম্পের সেই লক্ষ্যের সঙ্গে তেহরানও একমত।”
তিনি আরও বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা দল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যা বলেছেন তা অনুসরণ করে ন্যায্য ও সমতাপূর্ণ চুক্তিতে আসে তাহলে আমি আরেকটি আলোচনার সম্ভাবনা দেখি । অবশ্যই, বিনিময়ে আমরা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রত্যাশা করি।”