দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস : ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গোড্ডা জেলায় এক মুসলিম গবাদিপশু পরিবহনকারীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবার বলছে, কেবল মুসলিম হওয়ার কারণেই তাকে মারা হয়েছে।
পুলিশের বরাতে শনিবার এক প্রতিবেদনে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, বুধবার গভীর রাতে ঝাড়খণ্ড বিহার সীমান্তবর্তী এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহতের নাম পাপ্পু আনসারি। ৪৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি ছিলেন গোড্ডা জেলার পাঠারগামা থানার অধীন রানিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্ত্রী আয়েশা বেগম ৮ জানুয়ারি পোরাইয়াহাট থানায় দায়ের করা এজাহারে জানান, পাপ্পু আনসারি বিহারের বাঁকা জেলার শ্যাম বাজার গরুর হাট থেকে গবাদিপশু নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সুগাবাথান এলাকার মাতিয়ানি ফুটবল মাঠের কাছে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল তার গাড়ি থামিয়ে দেয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রথমে হামলাকারীরা পাপ্পু আনসারিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তারা কুড়াল, ফারসা ও তীরসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর হামলাকারীরা তার মরদেহ পাশের একটি মাঠে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাপ্পু আনসারি দীর্ঘদিন ধরে আইনসম্মতভাবে গবাদিপশু পরিবহনের কাজ করতেন এবং প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রসহ নিয়মিত বিহার ও ঝাড়খণ্ডের মধ্যে গবাদিপশু আনা নেওয়া করতেন। নিহতের শ্যালক ফুরকান আনসারি জানান, হামলাকারীরা প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের অজুহাতে গাড়িটি থামালেও, পাপ্পুর ধর্মীয় পরিচয় জানতে পারার পরই তাকে আলাদা করে নিশানা করা হয়।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে দেওয়া বক্তব্যে ফুরকান আনসারি বলেন, “পাপ্পু চালক ও গাড়িতে থাকা অন্যদের বলেছিল, তারা যেন নিজেদের বাঁচাতে পালিয়ে যায়। তারা পালাতে সক্ষম হলেও পাপ্পুকে ধরে ফেলে নির্মমভাবে মারধর করা হয়।” তার দাবি, এই হামলার পেছনে কোনো ডাকাতির উদ্দেশ্য ছিল না, বরং এটি স্পষ্টতই ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত।
নিহত পাপ্পু আনসারি স্ত্রী, চার কন্যা ও এক পুত্র রেখে গেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন বলে স্বজনরা জানান। এ বিষয়ে গোড্ডা জেলার পুলিশ সুপার মুকেশ কুমার জানান, ঘটনার পর একটি মামলা (এফআইআর) দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য নির্ধারণে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।” এই হত্যাকাণ্ড ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে উদ্ভূত সহিংসতা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন তুলেছে।