আরব নিউজ , আল জাজিরা : আফ্রিকার দেশগুলোর সংগঠন আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী ইউসুফ অবিলম্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় সংগঠনের ৩৯তম শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে, ফিলিস্তিনের জনগণের দুর্ভোগ বিশ্ব বিবেককে চ্যালেঞ্জ করে।

এখানকার মানুষের দুর্ভোগ বন্ধ করতে হবে। তিনি আফ্রিকায় চলমান একাধিক সংঘাতের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অস্থিতিশীলতার কারণে সুদান থেকে সাহেল, পূর্ব গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো, সোমালিয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলের মানুষকে চরম অনিশ্চিতার মধ্যে দিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে।

এসব অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আঞ্চলিত স্থিতিশীলতা রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানান।

এদিকে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এই শীর্ষ সম্মেলনে আফ্রিকান ইউনিয়নের ৫৫টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট অংশ নিচ্ছেন। এই বছর সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হলো পানি স্যানিটেশন। এছাড়াও সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছ থেকে বিদেশী সাহায্য কমে আসার পর মহাদেশের মানবিক সংকটের প্রতি প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হবে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এইউ শীর্ষ সম্মেলন আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে মহাদেশীয় অগ্রাধিকারগুলোকে একত্রিত করার সুযোগ প্রদান করবে, বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বারা আলোচিত 'নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা' নিয়ে আলোচনা চলছে এবং বিদেশী নেতারা বৈশ্বিক জোট পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ৫৪ ফিলিস্তিনি আহত: অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরে ইসরাইলী বসতি স্থাপনকারী ও সেনাবাহিনীর সমন্বিত অভিযানে অন্তত ৫৪ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাবলুসের দক্ষিণে তালফিট ও কুসরার কাছে বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত একজন গুলীবিদ্ধ হন। এছাড়া অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের উত্তর-পূর্বে মিখমাস শহরের কাছে খিল্লেত আস-সদরাহ এলাকাতেও হামলার ঘটনা ঘটে। রামাল্লার নিকটবর্তী তুরমুস আয়া এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা প্রায় ৩০০টি জলপাই গাছ কেটে ফেলে এবং কৃষিজমি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়।

একই সময়ে সেনাবাহিনী বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। দেইর গাসানেহ ও বেইত রিমা ছাড়াও জেনিনের কাছে জাবা, সিরিস ও মেইথালুন এলাকায়ও অভিযান পরিচালিত হয়।

এদিকে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস এসব হামলাকে ‘নৃশংস’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি অভিযোগ করে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নির্মূল নীতি’ বাস্তবায়ন করছে এবং সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীদের সেনাবাহিনীর সুরক্ষায় হামলার সুযোগ দিচ্ছে। হামাস আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে এবং পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।