দখলদার ইসরাইলের বর্বরতায় ফিলিস্তিনের গাজায় আরও ৭৭ ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছেন। বুধবার ইসরাইলী হামলায় তারা নিহত হন। ফলে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ হাজার ৪৭৬ জন ছাড়িয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা। একই সময় বহু হতাহত হয়েছে। ইসরাইলী বাধায় তাদের সবাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এর আগে মঙ্গলবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজায় আহত হওয়া আরও ১৮৩ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংঘাতের শুরু থেকে আহতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৮৩ জনে পৌঁছেছে। অনেক মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে আছে। তাদের উদ্ধারে স্বেচ্ছাসেবকদের যেতে দিচ্ছে না ইসরাইলী বাহিনী। ফলে নতুন করে বুধবার কতজন আহত হয়েছেন তা এখনও জানা যায়নি। এর আগে, ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ব্যাপক হামলা হয়েছে। ওই দিন ৮০ ফিলিস্তিনী নিহত হন। ঈদের মতো বিশ্ব সমাদৃত উৎসবেও গাজায় ইসরাইলী হামলা না থামায় বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় বইছে।
গাজার ‘বিস্তীর্ণ এলাকা’ দখলে নিতে চায় ইসরাইল
গাজায় সামরিক অভিযান বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইসরাইলী প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ। তিনি গত বুধবার উপত্যকায় সামরিক অভিযান জোরদার করার ঘোষণা দিয়ে আরও বলেছেন, ইসরাইলী সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডের ‘বিস্তীর্ণ এলাকা’ দখল করবে। এক বিবৃতিতে কাটজ বলেছেন, যুদ্ধরত এলাকাগুলো থেকে ফিলিস্তিনী জনসংখ্যা স্থানান্তরিত করা হবে। যুদ্ধ শেষ করার একমাত্র উপায় হামাসকে নির্মূল। তিনি ইসরাইলী জিম্মিদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য গাজাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে তিনি স্পষ্ট করেননি, ইসরাইল কতটুকু ভূখণ্ড দখল করতে চায়।
এদিকে গাজার উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, দুটি বাড়িতে ইসরাইলী হামলায় সকাল থেকে ১৫ জন নিহত হয়েছে। গাজার নাগরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডের দুটি বাড়িতে ইসরাইলী বিমান হামলায় শিশুসহ কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছে। বেসামরিক প্রতিরক্ষা মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল এএফপিকে বলেছেন, ‘দক্ষিণ গাজার মধ্য খান ইউনিসে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়দানকারী একটি বাড়িতে দখলদার বাহিনী (ইসরাইলী সেনাবাহিনী) বোমা হামলা চালালে ভোরে শিশুসহ ১৩ জন শহীদ হয়। মধ্য গাজার নুসাইরাত ক্যাম্পের একটি বাড়িতে ইসরাইলী হামলায় আরো দুজন নিহত হয়েছে।’ ইসরাইল ইতিমধ্যেই গাজার অভ্যন্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাফার জোন তৈরি করেছে। যুদ্ধের আগে ছিটমহলের প্রান্তের চারপাশে বিদ্যমান একটি এলাকা সম্প্রসারণ করেছে এবং গাজার মাঝখানে তথাকথিত নেটজারিম করিডরে একটি বৃহৎ নিরাপত্তা এলাকা যুক্ত করেছে।
গাজায় জাতিসংঘের ক্লিনিকে বোমা হামলা
গাজায় জাতিসংঘের ক্লিনিকে ইসরাইলী বোমা হামলায় অন্তত ২২ ফিলিস্তিনী বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত অনেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
গাজার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বুধবার উত্তর গাজায় জাতিসংঘের ফিলিস্তিনী শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) পরিচালিত একটি স্বাস্থ্য ক্লিনিকে ইসরাইলী বিমান হামলা চালায়। কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই হামলাটি করা হয়। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তিরাও রয়েছেন। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তারা এই হামলাকে সম্পূর্ণ যুদ্ধাপরাধ বলে উল্লেখ করে বিশ্ব সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে।
একটি মেডিকেল সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘ পরিচালিত ক্লিনিকটিতে জাবালিয়া শহরের শত শত বাস্তুচ্যুত বেসামরিক নাগরিক আশ্রয় নিয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে ৯ জন শিশু রয়েছে। ক্লিনিকটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আহতদেরও পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলার ফলে ভবনটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফলে বেশ কয়েকজন নিহতের মৃতদেহ পুড়ে গেছে।
ইসরাইলী সেনাবাহিনী হামলার কথা স্বীকার করেছে এবং দাবি করেছে যে হামাস সদস্যরা ক্লিনিকের ভেতরে সন্ত্রাসী কাজ করছিল। তবে তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি।